স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের চাকরি মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছে সরকার। বুধবার (২৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এমন তথ্য জানানো হয়। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী বুধবার (২৪ মে) তার তার সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে আজ (বুধবার) প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে তার অবসর-উত্তর ছুটি ও তদসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিতদের শর্তে আগামী ২৫ মে অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অন্যান্য শর্ত অনুমোদিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।

দৈনিক দখিনের সময়-এ ৭ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন
এর আগে মঙ্গলবার (২৩ মে) জননিরাপত্তা সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়র সচিব করা হয়। সোমবার মোস্তাফিজুর রহমানকে আগামী ২৪ মে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। উল্লেখ, তিনি গত ২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে ২৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। প্রজ্ঞাপন অনুসারে ৩১ মার্চ থেকে এ আদেশ কার্যকর হয়। তিনি জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম খানের স্থলাভিষিক্ত হন। আমিনুল ইসলাম খান ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে জ্যেষ্ঠ সচিব পদে যোগদান করেন। গত ৩১ মার্চ তিনি অবসরে যান। এরপর তার স্থলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান যোগদান করেন।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বিপিএএ ১৯৬৪ সালের ২৫ মে খুলনা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি বিপিএএ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। ১৯৯১ সালে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে মাঠ প্রশাসনের সকল স্তরে এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুর্ত্বুপূর্ণ পদে কর্মকাল অতিবাহিত করেন।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের রয়েছে সরকারের বিভিন্ন পদে কাজের অভিজ্ঞতা। ২০১১ সালে তিনি যশোর জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়িত হন। জেলা প্রশাসক থাকাকালীন যশোর জেলাকে ডিজিটাল জেলা বিনির্মাণে অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর নেতৃত্বকালীন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর জেলাকে প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, যশোর ২০১১ সালে ই-এশিয়া পুরস্কার অর্জন করে। মাঠ প্রশাসন পর্যায়ে ই-সেবা বাস্তবায়নে অবদানের জন্য সেরা ডিসি পুরস্কার-২০১২, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে অনন্য অবদানের জন্য সেরা ডিসি পুরস্কার-২০১৩ এবং শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে ২০১২ সালে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ প্রাপ্তি, জনসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জনপ্রশাসন পদক- ২০১৬’ অর্জন, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার থাকাকালীন জাতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস- ২০১৯ এ শ্রেষ্ঠ বিভাগের পুরস্কার অর্জন ও বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা বিভাগ, ঢাকা হিসেবে ২০১৯-২০ সালে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ অর্জন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা হিসেবে দলগত শ্রেণিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২০ অর্জন তাঁর কর্মজীবনের অনন্য র্কীতির স্বীকৃতি।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের কর্মদক্ষতা ও সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘Digital Land Tax’’ উদ্যোগটি তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ডঝওঝ ২০২২-এ ভূষিত হয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক- WSIS ২০২২’ অর্জন করে।
ব্যক্তিগত জীবনে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের দুই সন্তানের জনক।