• ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত গেটে তালা

দখিনের সময়
প্রকাশিত এপ্রিল ২৬, ২০২১, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত গেটে তালা

দখিনের সময় ডেক্স:

ভারতসংলগ্ন বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশে বেঙ্গল স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়া রোধেই এ সিদ্ধান্ত, জনিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মানুষ চলাচল বন্ধ থাকলেও এই ১৪ দিন সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। দেশের সীমান্ত গেটে তালা দেয়া হয়েছে।

এদিকে যেসব বাংলাদেশির ভারতে অবস্থানের ক্ষেত্রে শেষ হয়ে যাচ্ছে ভিসার মেয়াদ, তাদের ক্ষেত্রে কোভিড পরীক্ষার সনদ এবং কলকাতার বাংলাদেশ মিশনের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে দেশে ফেরার সুযোগ থাকছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, ভারতে বর্তমানে দুই হাজারের মতো বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫শ জনই রোগী এবং ৫শ ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা দেশটিতে গেছেন প্রকৃতপক্ষে আসন্ন ঈদের বাজারকে সামনে রেখে।

কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের হাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, ভারতে বর্তমানে যেসব বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, তারা দুই সপ্তাহের আগে ফিরতে পারবেন না। তবে এর আগেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে যাদের, কলকাতাস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনে তাদের যোগাযোগ করতে হবে। এখান থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা অনাপত্তিপত্র দেওয়া হলে দেশে ফেরা যাবে।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে পাওয়া গেছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের ট্রিপল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট, যাকে বলা হচ্ছে বেঙ্গল স্ট্রেইন। এ স্ট্রেইনের কারণেই পুরো ভারতজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেঙ্গল স্ট্রেইন অত্যন্ত মারাত্মক। এ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ-ক্ষমতা প্রায় ৩শ গুণ। এ কারণেই জনবহুল ভারতে করোনার চিন্তাতীত রকম সংক্রমণ ঘটছে; মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। তারা বলছেন, ভারতে যে দুটো ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, তা সারাবিশ্বেই বিস্ময় হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ ভারতের এই ডাবল কিংবা ট্রিপল মিউটেশন ভাইরাস যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যে রবিবার(২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সরকার নিকটতম প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। আপাতত ১৪ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। এ সময়কালে অবশ্য দুদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকবে।