• ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনায় পুরো ভারত যেনো শ্মশানপুরি,  ছড়িয়েছে অন্তত ১৭ দেশে

দখিনের সময়
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯, ২০২১, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
করোনায় পুরো ভারত যেনো শ্মশানপুরি,  ছড়িয়েছে অন্তত ১৭ দেশে

বিশেষ প্রতিনিধি:

করোনায় পুরো ভারত যেনো শ্মশানপুরি হয়ে উঠেছে। দিল্লিতে পার্কে, খোলা মাঠে, পার্কিং লটে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী শ্মশান।সংক্রমণ ও মৃত্যুতে বর্তমান বিপর্যয়কর অবস্থা চলছে ভারতে। শুধু তাই নয়, করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন বি.১.৬১৭ পুরো বিশ্বে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) বলেছে, ইতোমধ্যেই করোনার ভারতীয় ধরনটি আরও কমপক্ষে ১৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

সংক্রামক রোগের তথ্য সংগ্রহ এবং আদান-প্রদানে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা জিআইএসএইডের মুক্ত ডেটাবেজে করোনার ভারতীয় ধরনটির কমপক্ষে ১২০০ সিকোয়েন্স আপলোড হয়েছে। যা শনাক্ত হয়েছে ১৭টি দেশ থেকে। বেশিরভাগ সিকোয়েন্স আপলোড করা হয়েছে ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে। করোনা মহামারীর সাপ্তাহিক আপডেটে ডব্লিউএইচও এসব তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

যদিও যে দেশগুলোয় করোনার এই নতুন ধরন ছড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশের নাম আছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ধরনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন দেশীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবু সাবধানতা হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ও আকাশ যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাইরাসের পরিবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন মাথাব্যথার প্রয়োজন হয় না, কারণ নতুন সৃষ্ট অনেক ধরন মূল ভাইরাসের চেয়ে দুর্বল এবং কম ক্ষতিকর হয়। কিন্তু কিছু ভ্যারিয়েন্ট আবার অধিকতর ছোঁয়াচে হয়ে ওঠে, যার ফলে টিকা দিয়ে একে কাবু করা দুরূহ হয়ে পড়ে। কিন্তু সমস্যা হলো, কত দ্রুত এবং কত দূর নতুন ধরনের এ ভাইরাসটি ভারতে ছড়িয়েছে তার সুনির্দিষ্ট ধারণা পেতে যে মাত্রায় নমুনা পরীক্ষা করতে হয়, তা এখনো দেশটিতে সম্ভব নয়। ফলে বিজ্ঞানীরা এখনো জানতে পারেননি যে ভারতে প্রথম শনাক্ত এই করোনার ধরনটি অন্যগুলোর তুলনায় দ্রুত সংক্রমণ ঘটায় কিনা বা এটির বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর কিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভাইরোলজিস্ট ড. জেরেমি কামিল বলেন, করোনার ভারতীয় ধরনটির মিউটেশনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল ধরনের মিউটেশনের মিল রয়েছে। এই মিউটেশনটি দেহে রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থায় তৈরি অ্যান্টিবডিকে পাশ কাটিয়ে যেতে ভাইরাসকে সাহায্য করতে পারে। সংক্রমণ এবং টিকা নিয়ে আগের বিভিন্ন পরীক্ষায় এটি দেখা গেছে।