• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরের ভিশন: এনসিপির রূপান্তরের রূপরেখা

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৫, ১৭:৫৮ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরের ভিশন: এনসিপির রূপান্তরের রূপরেখা
দখিনের সময় ডেস্ক:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরির প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছে—এমনটাই জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এনসিপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অঙ্গীকারে বিশ্বাসী। দলটি মনে করে, বাংলার উপনিবেশবিরোধী এবং ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা এখনকার রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সেই সাথে তারা সকল ধর্মবিশ্বাস এবং জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় ও অধিকারকে সম্মান জানায়, এবং সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মীয় উগ্রতা উসকে না দিয়ে ধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে চায়।
নারীর মর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাকে এনসিপি তার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় যেখানে সামাজিক ইনসাফ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনকল্যাণমূলক কাঠামো থাকবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রমিক অধিকার ও পরিবেশ—এই ক্ষেত্রগুলোতে বাস্তবভিত্তিক নীতিনির্ধারণে দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেইসাথে বঙ্গোপসাগর ঘিরে একটি নতুন অর্থনৈতিক জোন তৈরির স্বপ্নও এনসিপির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ হবে একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারতের আধিপত্য এবং হিন্দুত্ববাদকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে নাহিদ বলেন, এনসিপি এসব প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো একক মতাদর্শে আবদ্ধ নই—না সেকুলারিজম, না ধর্মতন্ত্র। আমাদের লক্ষ্য একটাই—দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।” এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপই তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু বলে জানান তিনি।