• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

দখিনের সময়
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১৭:২৫ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় ডেস্ক:
প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবারের নির্বাচন নানা দিক থেকেই ব্যতিক্রম—দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংকট, ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পটপরিবর্তন এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটকে আলাদা করেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জনমত জরিপগুলো সঠিক হলে তারেক রহমান এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। ২০০৮ সালে চিকিৎসার কারণে দেশ ছাড়ার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন এবং তখন থেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিপরীতে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও ইতিহাসের দিক থেকেও তারেক রহমানের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ—তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর ছাপ রেখে গেছেন। আন্তর্জাতিক নীতির ক্ষেত্রে তারেক রহমান একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন।
দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক ভাষা ও ভঙ্গিতেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বদলে তিনি সংযম, পুনর্মিলন ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রতিশোধের রাজনীতির বিরোধিতা করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই জবাবদিহিতা ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। নির্বাচনের ফল যাই হোক, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।