• ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ষড়যন্ত্র  জোরেশোরে শুরু হয়েছে: তারেক রহমানের

দখিনের সময়
প্রকাশিত জুলাই ১৩, ২০২৫, ০৮:২১ পূর্বাহ্ণ
ষড়যন্ত্র  জোরেশোরে শুরু হয়েছে: তারেক রহমানের
দখিনের সময় ডেস্ক:
রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িতরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ার পেছনে সরকারের নীরব সমর্থন আছে কি না- সে প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি, ষড়যন্ত্র আরও শুরু হয়েছে, জোরেশোরে শুরু হয়েছে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
শনিবার(১২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। কিছু কিছু দল পুরান ঢাকার ঘটনাটিকে ভ্রান্তভাবে উপস্থাপন করছে। যে মারা গেছে তার সঙ্গে হয়তো যুবদলের সম্পর্ক আছে। কিন্তু যে খুন বা হত্যা করেছে, আমরা যেটা খবর পেয়েছি, তাকে অন্য জায়গা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে, তাকে ধরা হচ্ছে না কেন? তাকে এখনো সম্ভবত আসামি পর্যন্ত করা হয়নি। ধরা হলো অন্যদের।
তারেক রহমান বলেন, আমরা বরাবরই বলেছি, অপরাধী মানেই অপরাধী। অন্যায়কারীর বিচার হতে হবে আইনের ভিত্তিতে। দলের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক, তাতে কিছু যায়-আসে না। কোনো অপরাধীর পরিচয় রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় ঢেকে রাখা উচিত নয়। কেউ অন্যায় করলে দল তাকে কোনো রকম প্রশ্রয় দেবে না, দিচ্ছে না। দলীয় অবস্থান থেকে যা যা করার, সাংগঠনিক ব্যবস্থা আমরা নিয়েছে। প্রশাসনের প্রতি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। তার পরও প্রশাসন তাকে ধরছে না কেন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বসে আছে কেন? বিএনপি তো এখন সরকারে নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিএনপি তো চালায় না, চালাচ্ছে তো সরকার। তাহলে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? তাহলে কি ধরে নেওয়া উচিত, যারা দেশে গণপিটুনি, সহিংসতা এবং অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, তারা সরকারের বা প্রশাসনের কোনো অংশের নীরব সমর্থন পাচ্ছে বা লালনপালন করা হচ্ছে?
তারেক রহমান বলেন, আমি আট-নয় মাস আগেই বলেছি, অদৃশ্য শত্রু আছে। ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে সেই অদৃশ্য শত্রু। আজকে আমাদের দেখতে হবে, কারা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে দাঁড়ায়। আমাদের সত্যিকারভাবে খুঁজে বের করতে হবে, কারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আজ, গতকাল, গত পরশু বা ৫০ বছর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং কারা নেয়নি, এ বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমরা কারও কারও ভূমিকা দেখেছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিলেন, তখন আমরা দেখেছি, কারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা কাদের পক্ষ নিয়ে বিরোধিতা করেছে। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখছি, বিএনপি ছাড়া বিভিন্ন দল বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের গান গাইছে। তাই আমাদের সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের যে আন্দোলন-যুদ্ধ, সেই যুদ্ধ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।