• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিশুক প্রতিস্থাপনে অনিয়ম, সিন্ডিকেট চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়িকাড়ি টাকা

দখিনের সময়
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১, ২০২০, ১৫:০০ অপরাহ্ণ
মিশুক প্রতিস্থাপনে অনিয়ম, সিন্ডিকেট চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়িকাড়ি টাকা
আলম রায়হান:
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী আর দালালরা মিলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিশুক প্রতিস্থাপনের কাজ করেছে। প্রতিটি প্রতিস্থাপনের জন্য নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে শুধু প্রতিস্থাপনের কাজটি করেই এই চক্রটির সদস্যরা হাতিয়ে নিয়েছে ২৫-৩০ কোটি টাকা। আর এ অনিয়মের ফলে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত মিশুক মালিকরা। তাদের মধ্যে ক্ষুব্ধ কয়েকজন ইতিমধ্যে ফৌজদারি আইনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন।
রেজিস্ট্রেশন ছাড়া একটি নতুন সিএনজি অটোরিকশা বিক্রি হয় কমবেশি ৪ লাখ টাকায়। কিন্তু ঢাকার রেজিস্ট্রেশন থাকে তাহলে একলাফে দাম ওঠে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা। রাজধানীতে তাই একটি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন যেন সোনার হরিণ। এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) ঘিরে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট চক্র।
রাজধানীর এই ১ হাজার ৮০০ অটোরিকশার প্রতিস্থাপন নিয়ে বিআরটিএ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ প্রতিস্থাপনের তালিকায় স্থান পেতে গেলেও এই সিন্ডিকেটের মাধ্যম হয়ে যেতে হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এফিডেভিট দিয়ে মিশুক প্রতিস্থাপনের নামে শত শত অটোরিকশা মালিক হয়ে গেছে সিন্ডিকেটটির লোকজন। প্রতিটি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরে মোট ১ হাজার ৮০০ মিশুকের প্রতিস্থাপন করে ২৫-৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সিন্ডিকেট সদস্যরা।
এ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিআরটিএর সাবেক উপপরিচালক মাসুদুর রহমান, বর্তমান উপপরিচালক (ঢাকা বিভাগ) শফিকুজ্জামান ভূঞা, সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী পরিচালক শামসুল কবির জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বরকত উল্লা বুলু, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, মহিউদ্দিন আহমেদ, জাকির হোসেন ও কমল কুমার রায়সহ আরও অনেকেই জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অটোরিকশা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নিজে ও তার আত্মীয়স্বজন মিলে ১০০টি মিশুক প্রতিস্থাপন করে নিয়েছেন। আর বরকত উল্লা বুলু নিজ নামে ৪৬টি প্রতিস্থাপন নাম্বার নিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে দিগন্ত অটো নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক অমল কুমার রায় (গৌতম) নিয়েছেন মোট ৩০টি প্রতিস্থাপন নাম্বার। এর মধ্যে ১৬টি নিজ নামে আর বাকি ১৪টি নিয়েছেন স্ত্রী কাজল রানী রায়ের নামে। এসব ব্যক্তি সবগুলো মিশুকের ক্ষেত্রে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দেখাতে পারেননি। বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে শুধু একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে মূল মালিকের কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে মালিক দেখিয়েছেন। বিআরটিএর দাপ্তরিক মালিকানা সংক্রান্ত বইয়ে তাদের নাম নেই।