জামায়াত এখনো শরীকদের সাথে চুড়ান্ত আসন বন্টন করেনি। যদিও ১২ জানুয়ারি দলটির আমীর বলেছেন, দু’একদিনের মধ্যেই তারা এ কাজটি করতে পারবেন। এদিকে বিএনপি এখন পর্যন্ত শরীকদের জন্য আসন ছেড়েছে এক ডজন। একসময় ডার্টি ডজন নামে একটি ইংরেজি মুভি খুবই জনপ্রিয় ছিলো। সেই মুভিটি ছিলো বেশ আলোচিত। একইভাবে শরীকদের জন্য বিএনপির ছেড়ে দেয়া আসনের জোটের প্রার্থীরাও বেশ আলোচনায় আছে। এ আলোচনার বিষয় হচ্ছে, কয়জন পাস করবেন? কারণ আলোচিত আসনগুলোর সবগুলোতেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তারাই মূলত এলাকা নিয়ন্ত্রন করছেন।
আর কেন্দ্রীয় বিএনপির সমর্থন নিয়ে নাজেল হবার মতো উড়েএসে জুড়েবসা প্রার্থীরা স্থানীয় বিএনপির কাছে বহিরাগত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন। এরা জাতীয় রাজনীতির মঞ্চ ও টিভি টকশোতে ‘বিশাল’ ব্যক্তিত্ব অথবা ধনেশ পাখি হলেও নির্বাচনী এলাকায় অনেকটা দলছুট চিত্রা হরিন। তটস্থ অবস্থায় বিচরণ করেন। এলাকায় এদের কোন প্রভাব নেই। কিন্তু উত্তাপ আছে কেন্দ্রে। যা জোটের শরীকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। আর এই কারণেই জোট শরীকদের সন্দেহ, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরানো না হলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশে পাওয়া যাবে না।
বিএনপির শরীক দলের ‘বিশাল’ নেতাদের ভোটে পাস কপালে জোটার বিষয়টি তো অনেক দূরের প্রসঙ্গ, তাদের জন্য এখন মাঠে শক্তভাবে দাড়ানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িযেছে। কারণ যেইসব খুচরা দলগুলো বিএনপি-জামায়াত জোটের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন ছাড়া আর কারো জনভিত্তি নেই। এদিকে কেউ কেউ আবার মনে করেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিস্কারাদেশ এক ধরনের কাগুজে আনুষ্ঠনিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজয়ী হলে খুশিমনে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ঘরে ছেলে কোলে তুলে ঘরে নেয়া হবে। আর বিজয়ী না হলেও ঘরে ছেলেকে বেশি দিন দূরে রাখার কোন কারণ নেই! রাজনীতিতে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, দল থেকে বহিস্কার হলেও পরে বহিস্কৃতদের আবার দলে ফেরত নেয়া হয়। বিশেষকরে নির্বাচনে জিতে গেলে দলে ফিরতে মোটেই সময় লাগে না। তখন হয়তো ফুলের বাজার চড়ে যেতে পারে।
এদিকে জামায়াতের এগার দলের জোটে পর্যন্ত আসন সমঝোতাই শেষ হয়নি। রসিকতা করে বলা হয়, নির্বাচনের পর এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই সমঝোতা হবে! এই বাস্তবতায় জামায়াতের জোটে তৈরি হয়েছে একধরনের অস্থিরতা। এর মূল কেন্দ্রে আছে ইসলামী আন্দোলন। এমনকি জোটের ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারো মতে জামায়াতসহ এগারো দলীয় জোটের আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা না কাটলে জোট ভাঙার দিকেও যেতে পারে। আবার প্রশ্ন হচ্ছে, ভেঙ্গে যাবে কোথায়? অনেকেই তো রাজনীতিতে আগাছা! তাদের না আছে কর্মী, না আছে ভোট ব্যাংক।
সবমিলিয়ে দুটি রাজনৈতিক জোট ভেতর থেকে যে সংশয় আর অবিশ্বাসের মুখোমুখি তার সমাধান কীভাবে হয়, তার উপরই নির্ভর করছে নির্বাচনের আগে জোট দুটির ভবিষ্যত- এমনটাই মনে করেন পর্যবেক্ষরা। আর জোটে আসন সমঝোতা হোক, বা ‘মুখরা নারী বসিকরণ’ হোক, অথবা অন্য যাই হোক না কেন, তা যে জনপ্রত্যাশার সমান্তরালে যাবে না- তা হলফ করে বলা যায়। তা হলে, রাজনীতি তো যেই লাউ সেই কদুই থেকেগেলো! দেশ রূপান্তর হবে কীভাবে? আর নতুন সরকার গঠিত হবার পর রাজনীতি কোন দশায় পড়বে? এই আশংকা নিয়েই নির্বাচনের পুলসুরাত পার হবার পর কোন পরিস্থিতি ওতপেতে আছে? মহা আশংকার এ প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে!