জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর, আজকের এই দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসের সূতিকাগার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি আলোকিত করে আসেন এক শিশু। পরিবারের কনিষ্ঠতম এ সদস্যের আগমনে সেদিন পরিবারের সবাই ভেসেছেন বাঁধভাঙ্গা আনন্দে। আলোক বর্তিতা নিয়ে আগত এই শিশু পরিণত বয়সে বিশ্বকে করতেন আলোকিত- এটিই ছিলো স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু হায়! ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই শিশুর জীবনের আলো নিভিয়ে দিলো ঘাতকের নির্মম বুলেট!
জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান। তিনি বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের কোল আলোকিত করে এসেছিলেন, দেবশিশুর মতো। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শেখ রাসেল ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক শেখ কামাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা শেখ জামাল এবং শেখ রেহানা- দুই বোন দুই ভাই’র মধ্যমনী ছিলেন শিশু শেখ রাসেল। এদিকে শেখ রাসেল ছিলেন মায়ের বিশেষ আদরের।
জনগণকে জাগিয়ে তুলে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যাবার জন্য বছরের পর বছর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে চলা এবং বারবার কারারুদ্ধ হবার কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। একাধিকবার হয়েছেন মৃত্যুর মুখোমুখি। বঙ্গবন্ধুর সন্তানরা পিতার নিরবিচ্ছিন্ন সাহচার্জ পাননি। অতীতে আদরের শিশু সন্তাদের কাছে থাকতে না পারার অতৃপ্তি থেকেই হয়তো, রাষ্ট্রীয় এবং রাজনীতির নানান ব্যস্ততার মধ্যেও শেখ রাসেলকে কাছে রাখতেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
এ বিবেচনায় শেখ রাসেল ছিলেন সৌভাগ্যবান, পিতার ঘনিষ্ঠ সাহচার্য় পেয়েছেন তিনি। কিন্তু তাও মাত্র তিন বছর সাড়ে সাত মাস। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু এবং অন্যদের সঙ্গে ১৫ আগস্ট রাতের আঁধারে, বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যের হোতারা নিভিয়ে দেয় শেখ রাসেলের জীবন প্রদীপ, তখন তাঁর বয়স প্রায় দশ বছর।
শিশু রাসেলের মায়াবী মুখটিও, সেদিনের কালো রাতে ঘাতকদের নির্দয় মনে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। মায়ের কাছে যাবার জন্য অবুঝ শিশুর কান্নাও পারেনি ঘাতকদের মন গলাতে। ফলে ব্রাস ফায়ারে শিশু রাসেলের জীবন কেড়ে নিতে নিষ্ঠুর ঘাতকদের হাত কাঁপেনি একটুও।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশের চাকা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেবার অপচেষ্টা করেছে নৃশংস ঘাতকরা। তবে তাদের কালো ছায়া বাংলাদেশকে চিরদিনের মতো আচ্ছন্ন করে রাখতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত পথে ফিরে এসেছে, এগিয়ে যাচ্ছে অভিষ্ট লক্ষে। একই সাথে দ্রুব তারা হয়ে আছেন বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ রাসেল। যার জীবন প্রদীপ বুলেটের আঘাতে নিভিয়ে দিয়ে ঘাতকরা ভেবেছিলো, সব শেষ। কিন্তু ঘাতকদের সেই ভাবনা মরিচিকার মতো ২১ বছর দেশ-জাতিকে আচ্ছন্ন করে রাখলেও চির স্থায়ী হয়নি।
শেখ রাসেল সাংগঠনিকভাবে জাগরূক আছেন, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে। আছেন, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদে। তিনি হয়ে আছেন, শিশু-কিশোরদের প্রতিচ্ছবি। আজকের শুভ এই জন্ম দিনে কেবল নয়, প্রতিটি দিন দেশের মানুষের মানসপটে অমর হয়ে আছেন শেখ রাসেল। থাকুন চির অমর হয়ে। জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা।