• ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙছে হেফাজত, কাউন্সিলের বিরোধিতায় শফীর অনুসারীরা

দখিনের সময়
প্রকাশিত নভেম্বর ১৪, ২০২০, ২২:৩৭ অপরাহ্ণ
ভাঙছে হেফাজত, কাউন্সিলের বিরোধিতায় শফীর অনুসারীরা
দখিনের সময় ডেস্ক ॥
ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ ও মহানবীর সম্মান রক্ষায় গড়ে তোলা হেফাজতে ইসলামের ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংগঠনটির মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর সমর্থনপুষ্ট অংশের ডাকা কাউন্সিলের বিপক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেছেন প্রতিষ্ঠাতা আমীর প্রয়াত শাহ আহমদ শফীর পরিবারের সদস্য ও অনুসারীরা। তাদের অভিযোগ, অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে বিএনপি-জামায়াতের হাতে তুলে দিতে কাউন্সিল আহ্বান করা হয়েছে।
এছাড়া আহমদ শফীকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তারা এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শফীর হাতেগড়া সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কোনো কাউন্সিল না করারও দাবি তাদের।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন শাহ আহমদ শফীর ছোট শ্যালক মো. মঈন উদ্দিন। ব্যানারে হেফাজতের ইসলামের আহ্বানে সংবাদ সম্মেলনের কথা লেখা ছিল। তবে তিনি জানিয়েছেন, শফীর পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব মঈনুদ্দীন রুহী। উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির ছয় সদস্য এবং আহমদ শফীর নাতি মাওলানা কায়সার।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর শতবর্ষী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শাহ আহমদ শফীর জীবনাবসান হয়। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বড় মাদ্রাসা হিসেবে হিসেবে পরিচিত দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। তিনদিন ধরে ওই মাদরাসায় আহমদ শফীকে অবরুদ্ধ করে ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ শফীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর থেকে শফীর অনুসারীরা তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছিলেন। এ অবস্থায় আজ রোববার হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলন বা কাউন্সিলের ডাক দিয়েছেন মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীরা।
এ প্রেক্ষাপটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শফীর ছোট শ্যালক মো. মঈন উদ্দিন দাবি করেন, সুপরিকল্পিতভাবে হায়েনারূপী পাকিস্তানের দোসর জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারা হাটহাজারী মাদরাসার ভেতরে আহমদ শফীকে হত্যা করেছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শাহ আহমদ শফী স্বাধীনতার পক্ষে থাকায় তার উপরে বহুবার আঘাত এসেছে। তিনি প্রকাশ্যে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য ও বই লেখায় তার প্রতি জামায়াত-শিবিরের ক্ষোভ ছিল দীর্ঘদিনের। শাপলা চত্বরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ফাঁদে পা না দেওয়ায় তখন থেকেই শফী হুজুরকে দুনিয়া থেকে বিদার করার জন্য ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতে। ১৬ সেপ্টেম্বর কিছু ছাত্রকে উসকে দিয়ে মাদরাসায় জামায়াত-শিবিরের লেলিয়ে দেওয়া ক্যাডার বাহিনীকে ব্যবহার করে মাদরাসা অবরুদ্ধ করা হয়।’
শফীর পরিবারের পক্ষ থেকে এই ‘হত্যাকা-ের’ প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউন্সিল না করার দাবি জানান মঈন উদ্দিন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘হযরতের (আহমদ শফী) অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার থেকে একাধিকবার বলা হলেও সরকার, প্রশাসন বা হেফাজতের বর্তমান দায়িত্বশীলরা কোনো উদ্যোগ নেননি। ১৫ নভেম্বর হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় কাউন্সিলের মাধ্যমে হুজুরের হাতে গড়া অরাজনৈতিক কওমী সংগঠনকে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত-শিবির, বিএনপির হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ আল্লামা শফীর ‘হত্যা’র বিচারের আগে কোনো কাউন্সিল না করার জন্য হেফাজতে ইসলামের সকল দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে শাহ আহমদ শফীর ছেলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানী উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ‘হত্যার হুমকি’ থাকায় তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানানো হয়।