• ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাউফলের ডাঙায় কুমির জলে বাঘ

দখিনের সময়
প্রকাশিত জুলাই ২৭, ২০২০, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
বাউফলের ডাঙায় কুমির জলে বাঘ
সংবাদটি শেয়ার করুন...

নয়ন সিকদার, বাউফল ॥

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ও কেশবপুর ইউনিয়নরে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খড়স্রোতা তেতুলিয়া নদী। এ দুই ইউনিয়নের সহস্রাধিক জেলে ও শতাধিক পরিবারের ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘের সঙ্গে বাস’ করার মতো অবস্থা হয়েছে।

ইলিশের অভয়াশ্রম তেতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে নামার আগে আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতাদের নির্ধারিত হারে দিতে হয় চাঁদা। অপরদিকে ভূমিতে বসবাস করা পরিবারগুলোর দিনরাত কাটাতে হয় চোর-ডাকাতের আতংকে। প্রতিরাতে গোয়ালের গরু কিম্বা বসতবাড়িতে চুরির হচ্ছে তাদের। এর সঙ্গে জড়িতরাও ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় ভূক্তভোগীরা কোন প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে জানা গেছে, কেশবপুর ও ধুলিয়া ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গনী পরিবারগুলোর অধীকাংশদেরই পেশা কৃষি ও নদীতে মাছ ধরা। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী ইলিশের অভয়শ্রম তেতুলিয়া নদীতে জাল ফেলতে হলে জলদস্যু মহসিন বাহিনীকে নিয়মিত মাসোয়ারা  দিতে হয় জেলেদের। একসময়ের বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান তেতুলিয়ার তীরে তার বাড়ি। নিজের অপকর্ম ঢাকতে মাছের ব্যবসায় তিনি নদীতে জেলেদের দাদন ও ট্রলার দেন।

জেলেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে নেপথ্যে থেকে শাহজাহান তেতুলিয়ার আতংক জলদস্যু মহসিন বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা করেন। জলদস্যুদের মাসোয়ারা না দিলে জেলেদের অপহরণ, নদীপথে মালবাহী ট্রলার ও তীরের বসতবাড়িতে ডাকাতি, কৃষকের গোয়ালের গরু-মহিষ চুরি এখন নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এক মৌসুম নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রতিটি জেলে নৌকাকে প্রকার ভেদে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয় মহসিন বাহিনীকে। টাকা দেওয়া জেলে নৌকাগুলো লালসালু টানিয়ে নির্ভিগ্নে নদীতে মাছ শিকারের নিশ্চয়তা পায়। যে নৌকায় লাল সালু টানানো থাকেনা সেসব জেলেদের ওপর নেমে আসে মহসিন বাহিনীর নির্যাতন। এদিকে প্রতিনিয়তই চলছে কৃষকের গরু, মহিষ চুরি ও বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা। গবাদী পশু চুরি হওয়ায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে প্রায় তিন শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হয়েছে বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় কৃষকের অভিযোগ, কেশবপুর ইউনিয়ন এবং তেতুলিয়ার অপর তীর ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দৃষ্কৃতিকারীরা যোগসাজস করে গবাদীপশু চুরি করছে।চোর হাতেনাতে ধরা পড়লে ইউপি চেয়ারম্যান তার সহযোগী শাহজাহানকে দিয়ে সালিশের নামে প্রহসন করে চোরের জরিমানা টাকা আত্মাসাত করছেন।

শাহজাহানের ঢাকা ও চট্রগ্রামে কয়েকটি মাছের আড়ত ও ৭টি ট্রলার রয়েছে। বাউফলের তেতুলিয়ার তীরে তার মাছের আড়তঘর না থাকলেও হতদরিদ্র জেলেদের দাদন দিয়ে জিম্মি করে রেখেছেন। নদীতে ইলিশ শিকার করা জেলেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে জলদস্যু মহসিন বাহিনীকে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন তিনি। জেলেদের একদিকে দাদন অপরদিকে মাসোয়ারা দিতে হচ্ছে। চরের কৃষকরা জানান, লালচরের ঘাস খেয়ে  তাদের ২ থেকে তিন হাজার গরু-মহিষ বাঁচে। ওই ঘাস শাহজাহানের মাধ্যমে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন ভোলার চরকোড়ালিয়ার মেম্বর আলমগীরের কাছে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।  মেম্বর আলমগীর হোসেন বলেন, ঘাস বিক্রি বাবদ চেয়ারম্যান ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে তার কাছ থেকে। ওই এলাকার মুদী দোকানি ছালাম জানান, রফিক ও রাসেল নদীপথে জুয়ার আসর বসিয়ে যাত্রীদের হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

ধুলিয়া ও কেশবপুরে চুরি-ডাকাতির নেপথ্যে এদুজন বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেছে। কেশবপুর বাজারে দুজনেই অট্টালিকা নির্মাণ করেছে। তারা চেয়ারম্যানের সহযাগী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। বাউফল থানা পুলিশ রফিক ও রাসেলকে পৌরশহরের স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার করার পরও অদৃশ্য কারনে ছেড়ে দেয়।  রফিক কয়েকমাস কারাভোগের পর আদালতের মাধ্যমে কারামুক্ত হয়।

এ বিষয়ে শাহজাহান বলেন, তিনি ব্যবসা করেন, তবে কোন অপরাধের সাথে সে জড়িত নয়। কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলু বলেন, তিনি কোন অপরাধ কিংবা জণস্বার্থ বিঘ্নিত কোন কর্মের সাথে জড়িত নয়, মেম্বর শাহজাহান আগে বিএনপি করতেন এখন তার সাথে দল করেন। এসব মিথ্য ও প্রতিপক্ষের কারসাজি ।