চরকাউয়ায় খাল খনন উদ্বোধন, পুনরায় চাষাবাদের আওতায় আসবে আড়াই হাজার একর জমি
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ২০:৫২ অপরাহ্ণ

বরিশালের চরকাউয়া গ্রামে বরিশাল বিএডিসি খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক।

দখিনের সময় রিপোর্ট:
জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন মঙ্গলবার(২ ডিসেম্বর) বরিশাল নদীবন্দরের অপর পাড়ের চরকাউয়া ইউনিয়নে বিএডিসির খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এরফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও খালে পানি প্রবাহ ফিরে আসবে এবং পুনরায় চাষাবাদের আওতায় আসবে দীর্ঘদিন অনাবাদী থাকা আড়াই হাজার একর কৃষিজমি।
উল্লেখ্য, বরিশাল-ভোলা-ঝালকাঠি-পিরোজপুর অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের বিলের পোল এলাকা থেকে নাপিতবাড়ি পর্যন্ত কৃষিজমির মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া দুই কিলোমিটার ‘স্বনির্ভর খাল’ পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ বছর আগে ভেঙে পড়া কালভার্ট পুনঃর্র্নিমাণ কার্যক্রমও শুরু হয়হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, বরিশাল অঞ্চলে ভরাট হয়ে যাওয়া সব খাল পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। খাল খননে জলাবদ্ধতা কমবে, সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষকরা উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে লাভবান হবেন।
বিএডিসির বরিশাল জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি ৩০ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট গভীর করে খনন করা হবে। একইসঙ্গে সড়কে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এর ফলে আড়াই হাজার একর কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে পরোক্ষভাবে মুক্তি পাবে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়াতে ৬৫ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। চলতি বছর আরও ৩০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য রয়েছে। এতে ৩০ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে।
বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদ মুরাদ জানান, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০ কিলোমিটার খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বরিশাল অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়বে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম ভৌমিক জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন হলে শুধু চরকাউয়া ইউনিয়নেই বছরে প্রায় দুই কোটি টাকার ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।#
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম মিয়া জানান, সদর উপজেলার দিনার, নয়ানি, চর আইচা ও পূর্ব চরকাউয়াসহ চার-পাঁচটি গ্রামের দুই হাজারের বেশি কৃষক বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “মীরাবাড়ী সড়কের ভাঙা কালভার্টটি পুনর্র্নিমাণ ও খাল খননের ফলে সেচ সুবিধা বাড়বে। বাড়তি মাটি দিয়ে সড়ক সংস্কারও করা হবে; এতে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।” কৃষক আজাহার বলেন, “১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন। পুনঃখননের ফলে অনাবাদী জমি আবারও কৃষির আওতায় ফিরে আসবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং, বিএডিসির পিডি ওয়াহিদ মুরাদ, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ খান, বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আতায়ে রাব্বি, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম ভৌমিক, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ। ।
Post Views: ১৩৭