দখিনের সময় ।।
বরিশালের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, মাদকের ছোবলে তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে যা সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ। তিনি আরও বলেন, এই সামাজিক ব্যাধি কেবল ব্যক্তি জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিয়ে সমাজের সামগ্রিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। মাদকের এ থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। এসময় তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর থাকার আহ্বান জানান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে বরিশাল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা সঞ্চালনায় সভায় পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা.মো. সাইয়েদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বাসাবাড়ি আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ দূষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যাপকভাবে পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবেশের ওপর পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাপক। আইন প্রয়োগের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রায় কমানো সম্ভব হচ্ছে না। নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার কমাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন আরও বলেন, মানব পাচার একটি গুরুতর সামাজিক ও মানবিক সমস্যা। অসহায় ও দরিদ্র মানুষ যেন কর্মসংস্থানের আশায় পাচারকারীদের প্রলোভন ও প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।