দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কর্ণাটকের সরকার সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যসূচি থেকে টিপু সুলতান ও তার বাবা হায়দার আলি সংক্রান্ত অধ্যায়টি বাদ দিয়েছে। উল্রেখ্য, টিপু সুলতান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সেরিঙ্গাপত্তমের যুদ্ধে ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াইয়ে মারা যান মহীশূরের রাজা টিপু সুলতান। খবর: বিবিসি বাংলা।
রাজ্য সরকার বলছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য স্কুল বন্ধ, তাই প্রতিটা শ্রেণির পাঠ্যসূচিই কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেজন্যই টিপু সুলতানের অধ্যায় যেমন বাদ পড়েছে। কিন্তু টিপু সুলতানের বিষয়ে গবেষক মাইসোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান যোসেফ বলছিলেন, করোনা সংক্রমণকে সামনে রেখে আসলে যেসব বিষয় সরকারের পছন্দ নয়, সেগুলিকেই বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাদ দেয়া প্রতিটা বিষয়ই কর্ণাটক এবং ভারতের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্ণাটকের বিজেপি শাসিত সরকার এর আগেও টিপু সুলতানের বিষয়টি স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কংগ্রেস সরকারের আমলে শুরু হওয়া টিপু জয়ন্তী পালনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদরা বলে থাকেন যে টিপু সুলতানকে ব্রিটিশ বিরোধী লড়াইয়ের জন্য মনে রাখা হয়, কিন্তু আসলে তিনি ছিলেন একজন অত্যাচারী শাসক। কোডাগু জেলায় শত শত হিন্দুকে তিনি হত্যা করিয়েছিলেন এবং জোর করে ধর্মান্তরিত করেছিলেন বলেও তারা মনে করেন। কিছু হত্যা এবং ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ওই সময়ে হলেও তার জন্য টিপু সুলতান কোন মতেই দায়ী ছিলেন না বলে মনে করেন স্বাধীন চিন্তাশীল ইতিহাসবীদেরা। তারা বলে থাকেন, টিপু সুলতান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাতেই বিব্রত হয়ে ব্রিটিশরা টিপু সুলতানকে অত্যাচারী শাসক বলে প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিলেন। সেই ধারাই এখন হিন্দুত্ববাদীদের গলায় শোনা যাচ্ছে বলে মনে করেন মি. যোসেফের মতো ইতিহাসবিদরা।
এর আগে যখন ইতিহাস বই থেকে টিপু সুলতানকে বাদ দেয়ার প্রসঙ্গ এসেছিল, সেই সময়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করা হয়, যার প্রধান ছিলেন হাম্পি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক টি. আর. চন্দ্রশেখর। তিনি বলছিলেন, “আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলাম যে টিপু সুলতানের ইতিহাস পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেয়া যাবে না। কিন্তু এবারে করোনার জন্য সিলেবাসে যে কাটছাঁট করা হয়েছে তার আগে সরকার আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি।