• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় সুপারির বাম্পার ফলন, কৃষকদের মুখে হাসি

দখিনের সময়
প্রকাশিত অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ১৭:৫২ অপরাহ্ণ
ভোলায় সুপারির বাম্পার ফলন, কৃষকদের মুখে হাসি
দখিনের সময় ডেস্ক:
ভোলার সুপারি চাষে এ বছর দেখা দিয়েছে আশাব্যঞ্জক সাফল্য। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের প্রভাব কম থাকায় জেলাজুড়ে সুপারির ভালো ফলন হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। সুপারি চাষিরা জানান, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মৌসুমে প্রতিটি গাছে কাঁচা ও পাকা সুপারির ছড়ায় ঝুলছে ফলের প্রাচুর্য।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জেলার ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮১ হাজার মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। স্থানীয় বাজারে প্রতিভি (৩২০–৪০০ পিস) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। জেলার গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে ছোট-বড় বাগান গড়ে উঠেছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, উৎপাদন খরচ কম এবং একবার চারা রোপণের পর ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। ফলে এটি এখন তাদের অন্যতম লাভজনক ফসল।
তবে অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থকরী ফসলের চাষ করলেও কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও কারিগরি পরামর্শ পান না। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, “ভোলা দেশের অন্যতম সুপারি উৎপাদনকারী জেলা। এ বছর ফলন ইতিহাসের সেরা। আমরা বাণিজ্যিক চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি, ভবিষ্যতে কারিগরি সহায়তাও আরও বাড়ানো হবে।” কৃষকরা মনে করছেন, সরকার ও কৃষি বিভাগের সুদৃষ্টি পেলে ভোলার এই ঐতিহ্যবাহী সুপারি চাষ দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।