• ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলও ছিল নীলাভ গ্রহ এক

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৯, ২০২৩, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মঙ্গলও ছিল নীলাভ গ্রহ এক
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় ডেস্ক:
পৃথিবী আরেকটা মুকুট হারাতে যাচ্ছে। মহাবিশ্ব তো পরের প্রশ্ন, খোদ সৌরজগতেই সে একমাত্র নীলাভ গ্রহ নয়। একদা অন্তত তিন প্রতিবেশী ছিল পৃথিবীর, যারা নীলাভ ছিল। যাদের গায়ে সাগর আর নদী ছিল এবং এসব গ্রহ প্রাণ বিকাশের জন্য উপযোগীও ছিল। একসময়ের বাসযোগ্য সেই তিন গ্রহ হলো: বুধ, শুক্র আর মঙ্গল।
দ্য টাইমস জানিয়েছে, ‘প্ল্যানেটস’ নামে প্রকাশিতব্য বইতে এমন দাবি তুলেছেন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী ব্রায়ান কক্স ও তার সতীর্থ গবেষকরা। আগামী মাসে বিবিসি-২ এর ‘দ্য প্ল্যানেটস’ ধারাবাহিকেও এ দাবি নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।
আমি আর মরিয়ম মিজান রত্না শুক্রগ্রহের ‘ডেনজারাস বিউটি’ কিংবা ‘ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য’ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম ‘বিজ্ঞানের বিস্ময়কর গল্প’ (বিজ্ঞান একাডেমী, ২০১৪; পৃষ্ঠা ৭১-৭৪) বইতে। সূর্যের দ্বিতীয় আর পৃথিবীর নিকটতম এই গ্রহের নাম প্রেমের দেবী ভেনাসের নামে। কিন্তু এর তাপমাত্রা সাড়ে চারশ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি।
তবে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কক্সের মতে, শুক্রই প্রথম নীলাভ গ্রহ একসময় যার সাগর ছিল, নীল আকাশ ছিল। এরকম পরিবেশ ছিল ২০০ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে, স্থলে প্রাণ বিকাশের জন্য যে সময় পর্যাপ্ত। ৭০ কোটি বছর আগে সেই সাগর, সেই জল শুকিয়ে গেছে।
বুধ সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ (আগে এই রেকর্ড ছিল গ্রহ-পদবীহারা প্লুটোর)। সৌরপরিবারে এমনও চাঁদ আছে যা বুধের চেয়ে বড়। আমাদের চাঁদের তুলনায় দেড়গুণ মাত্র। কিন্তু কক্সের দলের দাবি, একসময় বুধ আজকের চেয়ে আকারে বেশ বড় ছিল। তখন তার সাগর ছিল, ছিল জীবন বিকাশের সব উপাদান। ওই সময় পৃথিবী ও মঙ্গলের কাছাকাছি কক্ষপথে ছিল বুধ। গ্রহরাজ বৃহস্পতির মহাকর্ষ টানে পরে কক্ষপথ বদলেছে তার।
কক্স বলছেন, প্রতিবেশী তিন ‘আদি পৃথিবী’র মধ্যে মঙ্গলই সবচেয়ে ‘যোগ্য গ্রহ’ যেখানে সম্ভবত কোনো একসময় জীবনের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছিল। ৩৫০ কোটি বছর আগে মঙ্গলে সাগর ছিল। সেই সব জল তবে গেল কোথায়?
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও আর্থ অবজারভেটরি অব সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, মঙ্গলের কোনো জলই হারিয়ে যায়নি, জমা আছে আজকের লালগ্রহের অন্দরমহলে; কৃষ্ণধূসর আগ্নেয়শিলারা সব জল শুশে নিয়ে সঞ্চিত রেখেছে তাদের শরীরে।