• ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিশুদের সঙ্গে শিক্ষকের বিকৃতযৌনাচার, ৩০ ছাত্রকে বলাৎকার

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৪, ১৮:১৫ অপরাহ্ণ
শিশুদের সঙ্গে শিক্ষকের বিকৃতযৌনাচার, ৩০ ছাত্রকে বলাৎকার
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় ডেস্ক:
দশ বছরের কম বয়সী ৩০ জন স্কুলছাত্রের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করেছেন ৩৩ বছরের শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াকেল। শিশুদের বলাৎকার করে তিনি মোবাইলে ধারণ করতেন। সেগুলো জমা রাখতেন পেনড্রাইভ, কম্পিউটার ও এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় সেই যৌন নিপীড়ককে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
অনার্স পড়ার সময় থেকে ছেলে বাচ্চাদের সঙ্গে মো. আব্দুল ওয়াকেল বিকৃত যৌনাচার করতেন।  এ নেশার কারণে সে বালকদের নিয়ে কোচিং সেন্টার চালু করেছিলেন। কোচিং সেন্টারে পড়া বাচ্চাদেরকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে বিভিন্ন গোপনীয় স্থানে নিয়ে যেতেন। এরপর তাদের পছন্দের মোবাইল গেম খেলতে দিয়ে ব্যস্ত রেখে তাদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতো। তার ভষ্যমতে, এ পর্যন্ত সে ৩০ জন স্কুল ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। গ্রেপ্তারকালে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন, পেনড্রাইভ এবং কম্পিউটারের একাধিক হার্ডডিস্কে স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি ছাত্রদের বিপুল পরিমাণ নগ্ন ছবি, ভিডিও এবং চাইল্ড পর্নোগ্রাফির কন্টেন্ট পাওয়া যায়।
মো. আব্দুল ওয়াকেল রাজশাহীর কাটাখালীর আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের একজন শিক্ষক। ছাত্রাবস্থায় সে তার এলাকায় টিচ-ইন নামের একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন। কোচিংয়ের শিক্ষকতা করার সময় থেকেই সে কোচিংয়ের কোমলমতি ছাত্রদের টার্গেট করে চকলেট এবং মোবাইলে গেমস খেলার প্রলোভন দেখিয়ে সখ্যতা গড়ে তুলতেন। পরে তাদেরকে ফুসলিয়ে তার কোচিং সেন্টারে অথবা নিজ বাড়িতে এবং কখনো কখনো আশপাশের আম/লিচু বাগানে নিয়ে যেতেন। সরলমনা ছাত্রদের চকলেট এবং পাবজি গেম ডাউনলোড করা মোবাইল ফোন হাতে দিয়ে পাবজি গেম খেলতে বলতেন। বাচ্চারা তখন জনপ্রিয় পাবজি গেম খেলা নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকতো। এই সুযোগে তাদের সাথে যৌনলালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সে শিশু বাচ্চাদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করতেন। এদিকে পূর্ব থেকে সেট করা মোবাইল ক্যামেরায় যৌনাচারের ভিডিও ধারণ করে তা সংরক্ষণ করে রাখতেন। যৌন নিপীড়নের শিকার সব শিশুরা তার ছাত্র ছিল।
অভিযুক্ত মো. আব্দুল ওয়াকেলের বিরুদ্ধে তার বর্তমান কর্মস্থল আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুল, কাটাখালী, রাজশাহীর প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় ডিএমপিতে পেনাল কোড, ১৮৬০ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ মোতাবেক একটি মামলা করেছেন।