বরিশালের এক ছোট্ট গ্রামে বিকেলটা বেশ শান্তই ছিল। দৌলতপুরের স্বঘোষিত গোয়েন্দা শফিক তার চতুর্থ কাপ চা চুমুক দিতে দিতে চায়ের দোকানে বসে ছিল। হঠাৎ চারদিকে হইচই পড়ে গেল। গ্রামের বিখ্যাত ইলিশ রান্নার জাদুকরী, জমিলা খাতুন দৌড়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে চিৎকার করে বললেন, “আমার ইলিশ চুরি গেছে! রান্নাঘর থেকে কে যেন নিয়ে গেছে!” গ্রামবাসীর একটাই সমাধান—শফিক! সস্তা সানগ্লাস সামলে শফিক দৃঢ় কণ্ঠে বলল, “এই কেসটা গোয়েন্দা শফিকই সমাধান করবে!”
প্রথমেই সে গেল টুট্টা মিয়ার কাছে, যে গ্রামের কুখ্যাত খাবার চোর। কিন্তু টুট্টার আলিবাই ছিল পাকা—মাত্র দশ মিনিট আগে সে চায়ের দোকান থেকে সিঙাড়া চুরি করতে ধরা পড়েছে। এরপর শফিক জেরা করল মিন্টু মাঝিকে। মিন্টু শপথ করে জানাল, ঈদের পর থেকে সে ইলিশের মুখ দেখেনি, তার স্ত্রীর টাইট বাজেটের কারণে। শেষে শফিক লক্ষ্য করল মাটির ওপর একদম স্পষ্ট মাছের আঁশের ছাপ, যা সরাসরি নিয়ে গেছে ভোলা মিয়ার বাড়ির দিকে, যে গ্রামের নতুন বাসিন্দা আর যার খিদের ইতিহাস খুবই সন্দেহজনক।
ভোলার রান্নাঘরে ঢুকেই শফিক তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলল। না, আসলে তেলেভাজা হাতে! ভোলা তখন জমিলার ইলিশ ভাজা শেষ করতে ব্যস্ত। “আমি করিনি!” ভোলা প্রতিবাদ করল, মুখে ইলিশের তেল ঝরতে ঝরতে। “মাছটা নিজেই আমার কড়াইতে লাফ দিয়ে পড়েছে!” এ কথা শুনে গ্রামবাসী হেসে কুটি কুটি। জমিলা তার মাছ ফেরত নিলেন, যদিও তাতে ইতোমধ্যেই কয়েক কামড় পড়েছে। শফিক তার ন্যায্য পারিশ্রমিক হিসেবে জমিলার ইলিশের বাটি থেকে একটু ঝোল খেয়ে আনন্দিত হলো এবং তাকে বলল, “ইলিশ আর কখনো অরক্ষিত রাখবেন না, এই আমার সতর্কবার্তা!”
গ্রন্থনা – ইলহাম জামান