• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসন ক্যাডারের কোতোয়ালরা মাশাআল্লাহ!

দখিনের সময়
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ
প্রশাসন ক্যাডারের কোতোয়ালরা মাশাআল্লাহ!
বরাবরের মতোই এখনো মাশাআল্লাহ তুঙ্গে আছেন প্রশাসন ক্যাডারের কোতোয়ালরা। ১৫ বছরে এদের অনেক কেচ্ছাকাহিনি আছে। আগেও ছিল। বর্তমান সরকার আমলে এর অবসান হয়েছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং ডিসি হওয়ার বাসনায় অনেকের বিরুদ্ধেই টাকার বস্তা নিয়ে ছোটাছুটি খবর প্রথমসারির জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। অনেকে আবার সচিবালয়ে মারামারি-হাতাহাতি করার জন্য বেশ খ্যাত। তবুও এরা হাসিনা আমলের চেয়েও অধিক হারে সর্বত্র দাপটে বিরাজমান।  আমলাদের মাথায় তোলার যে কম্ম শেখ হাসিনা করে গেছেন, তা থেকে বর্তমান সরকার বের হতে পারেনি।
প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আগে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের কাছ থেকে নানা বিষয়ে প্রস্তাব চায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। এ সুযোগে প্রশাসন ক্যাডারের রত্নরা পুলিশ নিয়ে এন্তার জ্ঞান দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে তিন শতাধিক প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব পুলিশসংশ্লিষ্ট। এসব প্রস্তাবে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ ছাড়াও জেলা পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারির ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে ডিসিদের পক্ষ থেকে। সবচেয়ে মজার প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেটের ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ। তার প্রস্তাব, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাণঘাতী অস্ত্র ও ছররা গুলি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।’তার মতে, ‘জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, ছররা গুলিও মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে উপলব্ধি হয়েছে, পুলিশের হাতে শটগানও থাকা উচিত নয়।’ ধন্য, ধন্য! উর্বর মগজ আর কাহাকে বলে!
ডিসিবৃন্দ এবং অন্যান্য মহল থেকে যেসব প্রস্তাব এসেছে তাতে যে কারও মনে হতে পারে, সব সরকারের আমলেই পুলিশ ছাড়া সরকাররের উজির-নাজির-পাইক-পেয়াদা-কোতোয়ালরা কীর্তন গেয়ে সময় পার করেছেন এবং তারা একেকজন দেবপুত্র, পূতপবিত্র। আর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময় তারা তো সবাই তাবলিগে গিয়েছিলেন! শুধু ঘরে-বাইরে-মাঠে-আগানে-বাগানে সর্বত্র বিরাজমান ছিল পুলিশ! যে কারণে পান থেকে চুন খসলেই পুলিশ কট!
এমনকি গাজীপুরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঘটনার জেরে ওসিকে চাকরি হারাতে হয়েছে। ক্ষমা চাইতে হয়েছে খোদ পুলিশ কমিশনারকে। সামগ্রিক অবস্থায় মনে হয়, পুলিশকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে মুখে বেবি ফিডার এবং হাতে পাঠখড়ি ধরিয়ে দিলে কেমন হয়? বিপদে পড়লে এ পাটখড়িকে সাদাছড়ি হিসেবে ব্যবহার করে অন্ধ সাজার কৌশলে জীবন রক্ষার চেষ্টা করতে পারবে।
# দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, শিরেনানাম, ‘পুলিশকে আইনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে’