বেগম খালেদা জিয়া অতুলনীয়, অনন্য। তিনি কারো সঙ্গে তুল্য নন! এর কারণ অনেক! এরমধ্যে প্রধান হচ্ছে দুটি। এক. তার দেশ প্রেম। দুই. তার দৃঢ়তা। প্রধানত তাঁর এই দুটি ইনবিল্ড বৈশিষ্টের কারণেই দেশের দুই স্বৈরাচারের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। এক. সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ। দুই. ফেসিস্ট শেখ হাসিনা। বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন, স্বৈরাচারের পতন মানে কেবল ব্যক্তি অথবা কোন সরকারের অবসান নয়, এ হচ্ছে দেশ রাহুমুক্ত হওয়া। এই অসাধ্য সাধন বেগম খালেদা জিয়া দুইবার করেছেন। আর দু’বারই তাঁর দেশ প্রেম ও আপোষহীন অবস্থানই ছিলো সাফল্যের প্রধান ভিত্তি। বিশ্বে এমন নজির আছে বলে জানাযায়নি।
কেবল মৌলিক নয়, স্বৈরাচার এইচ এম এরশাদের পতনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূিমকাও ছিলো একক। সেই কঠিন সময়ে অনিশ্চিত যাত্রায় বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে মাঠে ছিলেন তা বিরল ঘটনা হিসেবেই ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। আর সেই সময় তিনি শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস না করলে ৯০-এর অনেক আগেই এরশাদের পতন হয়ে দেশ হয়তো রাহুমুক্ত হতে পারতো। যদিও এরশাদ পতনের সুফল দেশবাসী বেশিদিন উপভোগ করতে পারেনি। ৯১ সালের পর ৯৬ সালে অনেক কান্নাকাটি করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু এর ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা সন্ত্রাসের উপর ভিত্তি করে আসে ওয়ান ইলেভেনের সরকার। রহস্যজনক এই সরকারের কারসাজিতে ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে গদি দখল করেন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি নিজরূপে আবির্ভূত হন। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে প্রায় ধ্বংস করেদিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এ হিসেবে স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ ছিলেন একবারে শিশু। এদিকে স্বৈরাচার হিসেবে পরিচিতির সঙ্গে শেখ হাসিনা ফেসিস্ট তকমাও পেয়েছেন। আর এই ফেসিস্টকে বিদায় করতেও প্রধান ভিত্তি ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার দেশ প্রেম, দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থানই ছিল ২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের সাফল্যের ভিত্তি। তার আপসহীন লড়াই ছাড়া গণ-অভ্যুত্থান সফল হতো না বলে অভিজ্ঞজনরা মনে করেন। যদিও এখন অনেকেই জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের দাবীদার। কিন্তু প্রকৃত নেতৃত্ব দিয়েছে জনগণ। আর এই জনগণের লড়াই করার অফুরাণ সাহস যোগিয়েছে বেগম জিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম। তিনি বিন্দুমাত্র নতি স্বীকার করলে ফেসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ২৪-এ তো দূরের কথা ৪২-এও হতো কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। হয়তো, শেখ হাসিনার মৃত্যু পর্যন্ত জাতির মুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হতো।
এদিকে অনেকেই জানেন, ২০০৮ সাল থেকে নানাভাবে খালেদা জিয়ার ওপর অমানবিক নিপীড়ন ও নির্যাতন চলেছে। পড়ে যা নিষ্ঠুরতায় রূপান্তরিত হয়েছে। যা এ পর্যায়ে তার মৃত্যুকে ত্বরান্নিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরও বেগম খালেদা জিয়া অটল দৃঢ়তায় দেশের সাধারণ মানুষকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি যোগিয়েছেন। দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া এখন সময়ের দাবি। আর এ পর্যন্ত যতটুকু হয়েছে তাকে সূচনা পর্ব হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। তাঁকে আরো অনেক কিছু দেবার আছে কৃতজ্ঞ এই জাতির। আর আমাদেরকে চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বত্র তার ছবি স্থাপন করা জরুরী বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।