প্রায় সকলেই কাছেই স্পষ্ট, দল এবং দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমান দৃঢ় অবস্থানে। আর এটি শুধু সাধারণ কোনো ধারণা নয়, শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত; যা তারেক রহমান নানান চড়াই-উতরাইর মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন। তিনি কোনো ললিপপ রাজনীতিক নন, দুই রাষ্ট্রনায়কের স্রোতধারা ধারণ করে পোড়খাওয়া এক জাতীয় নেতা। তিনি পদে পদে শিখেছেন বলে ধারণা করা হয়। কারও কারও মতে, তার প্রধান শিক্ষা হয়েছে ওয়ান ইলেভেন সরকারের ১৮ মাসের কারা নির্যাতন ও অত্যাচার এবং হাইড্রোলিক প্রেশারে দেশ ছাড়ার পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বৈরিতার কারণে ১৭ বছরের প্রবাস জীবনে।
ওয়ান ইলেভেন সরকার এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বৈরিতাই শেষ কথা নয়। এরপরও তাকে নানানমুখী প্রতিবন্ধকতা সামলাতে হয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে, চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর মনে করা হয়েছিল, সহসাই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। এমনকি ফ্যাসিস্ট পতনের ১১ দিনের মাথায় ১৬ আগস্ট তার দেশে ফেরার উদ্যোগ ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বরং তার দেশে ফেরা নিয়ে অনেকরকম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে, ঘোলা হয়েছে অনেক জল। গুজব আর রটনাও কম হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি নিজেও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ফেসবুকে। একপর্যায়ে তার দেশে ফেরার বিষয়টি অধিকতর মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু মেঘ সহসাই কেটে গিয়ে স্নিগ্ধ রোদেল সূর্যের মতো তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেন। তার ফেরা বিজয়ের বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ১৭ মিনিটের ভাষণ অসাধারণ এক দলিল হিসেবে বিবেচিত। স্বল্পমেয়াদি এ ভাষণে এমন কোনো জরুরি বিষয় নেই, যা তিনি উল্লেখ করেননি। আর তার ঐতিহাসিক এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু দেশের অভ্যন্তর নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রয়টার্স, এএফপি এবং বিবিসির মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। যেখানে তাকে অভিহিত করা হয়েছে বাংলাদেশের আগামী দিনের নেতা বা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
# লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক
দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, ৮/১/২০২৬। শিরোনাম, ‘বারুদের স্তূপ থেকে বেরিয়ে আসার পরীক্ষা’