গভীরের যে কথা বহু আগে বলে গেছেন মেধাবী রাজনীতিক কর্নেল (অব.)
আকবর হোসেন। তার ভাষ্য, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো নিজে মন্ত্রী থাকেন না।’ আকবর হোসেন এ কথা
বলেছিলেন শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর রফিক
প্রসঙ্গে। যাকে আড়াই বছরের মধ্যে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
দার্শনিকরা কবি না হলেও, কবিরা সাধারণত দার্শনিক এবং কবিতা সর্বজনীন। কবিতার দোতনা যুগে যুগে ঘুরেফিরে অনুভব করা যায়। যেমন, সম্প্রতি নিরাপত্তার জন্য যেভাবে অস্ত্র বিতরণে সরকার পণ করেছে, তাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জুতা আবিষ্কার কবিতার দোতনা বেশ অনুভব করা যাচ্ছে। কবিতা প্রসঙ্গে কলামের শেষের দিকে আসি। শুরুতে অস্ত্র বিতরণ প্রসঙ্গে আসা যাক। বিষয়টি অনেকটা শিশুতোষ শিক্ষায় সেই পঠনের মতো, ‘রাজা নিজ সিংহাসনে বসিয়া নিজ হস্তে নিজ প্রজাদিগকে অর্থ দান করিতেছেন।’ তবে এখানে অর্থের বদলে অস্ত্র এবং প্রজার বদলে বিশিষ্টজনকে ধরে নিতে হবে। তা ছাড়া প্রজাদিগকে নিয়ে ভাবেই-বা কে! অথচ সবকিছুই চলে প্রজা তথা জনগণের নামে। সরকার বলে জনস্বার্থে, মানে জনগণের স্বার্থে। রাজনৈতিক দলগুলোও তাই বলে। এই হচ্ছে আধুনিক যুগের অবস্থা। আর আগের অবস্থা যে খুব একটা অন্যরকম ছিল, তাও জোর দিয়ে বলা যাবে না। কারণ, সেই সময়ের জমিদাররা প্রজাদের জন্য সুপেয় পানির উৎস হিসেবে যে দীঘি খনন করতেন, তার পেছনেও স্বার্থবোধ বেশ টনটনে ছিল। এর মধ্যে, একটি হচ্ছে কলেরায় প্রজারা দলে দলে মরে গেলে জমিতে ফসল ফলাবে কে? আর ফসল না ফললে তো খাজনা আদায় করা কঠিন হবে। এমনিতেই প্রজারা খাজনা দিতে চাইত না। যেমন, এখনো চায় না। কাজেই বড়-ছোট যাই হোক, সবকিছুর পেছনেই মতলব থাকে। তবে মতলবের বিষয়টি আমজনতা সচরাচর জানতে পারে না। যেমন, অজানা আছে নির্বাচনে প্রার্থী এবং বিশিষ্টজনের গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের শানেনজুল। আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো বিষয়ে ‘যাহা বলা হয়, তাহাই কিন্তু শেষ কথা নয়!’ কথার পিঠে যেমন কথা থাকে, ঘটনার পেছনে ঘটনা আছে, প্রতিবাদের পেছনেও নানান উদ্দেশ্য থাকে। যেমন, মাদক ও পতিতা ব্যবসায়ীরাই সম্প্রতি কুয়াকাটায় অনৈতিক এ ব্যবসার বিরুদ্ধে মিছিল করেছে। আর এটিকেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ধরে নিয়েছে এলাকাবাসী।
রাজনীতির যুবরাজ ওসমান হাদির অকালপ্রয়াণের ঘটনায় নানান প্রতিক্রিয়ার প্রধান দুটি হচ্ছে—দুটি পত্রিকা অফিসে হামলা এবং বিশিষ্টজনদের অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার পর এটিকে আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেকেই অস্ত্র ও গানম্যান পেয়ে গেছেন। এ হচ্ছে মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার উল্টো ভার্সন, ‘কল্লার ওপর অসংখ্য মাথা লাগিয়ে দেওয়া’। তবে কল্লা না বলে ঘাড় বলাই বেহেতের। কারণ, কল্লা উচ্চারণ করে ১৯২৭ সালে ঝালকাঠির অজপাড়াগাঁয়ে সৈন্যদের গুলিতে ১৯ জন শহীদ হয়েছিলেন। তখন কিন্তু আইনশৃঙ্খলা আজকের তুলনায় ভালো ছিল বলে মিথ আছে। কাজেই কোনো অঘটনের পেছনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই একমাত্র প্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। তবে এর বিশাল প্রভাব আছে। যেমন হয়েছে বিপ্লবী হাদির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে। বিবেচনায় নিতে হবে, শুদ্ধ বিপ্লবী হাদির হত্যাকাণ্ড শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়। আরও অনেক গভীরের খেলা থাকতে পারে। সামগ্রিক বিবেচনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ভালো বলার কোনো উপায় নেই। আবার এ ব্যাপারে ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ওপর চাপানোর একটি জোরালো প্রয়াস আছে। কিন্তু এটি বিবেচনায় আনা হচ্ছে না, কৃষি মন্ত্রণালয়ে যে ব্যক্তি খুবই সফল, সে কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যর্থতার খাদে? আর আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি কি শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা উপদেষ্টার ওপর নির্ভর করে? নিশ্চয়ই না। এর সঙ্গে অসংখ্য ফ্যাক্টর সম্পৃক্ত। ঘরের ইঁদুরেরও কারসাজি থাকে কখনো কখনো। কিন্তু দোষ চাপে শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা উপদেষ্টার ওপর! দোষারোপ করার এ ধারা সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আরও উপরে গেছে। যারা বোদ্ধা হিসেবে পরিচিত, তারাও কথায় কথায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে সুগভীরে তো দূরের কথা, সাধারণ গভীরতায় যাওয়ারও চেষ্টা করা হয় না। গভীরের যে কথা বহু আগে বলে গেছেন মেধাবী রাজনীতিক কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন। তার ভাষ্য, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো নিজে মন্ত্রী থাকেন না।’ আকবর হোসেন এ কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর রফিক প্রসঙ্গে। যাকে আড়াই বছরের মধ্যে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। কিন্তু তার পর মোহাম্মদ নাসিম এসে মাটির নিচ থেকে সন্ত্রাসী ধরার বুলন্দ আওয়াজ দেওয়া ছাড়া আর কি কিছু করতে পেরেছেন? পারেননি। এদিকে ইনকিলাব মঞ্চ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত খোদা বকশ চৌধুরীরও পদত্যাগ দাবি করেছে। এই খোদা বকশ চৌধুরী পুলিশপ্রধান ছিলেন তিন মাসের জন্য। এর আগে এক দিনের জন্য ছিলেন র্যাবের ডিজি। ব্যক্তিগত সততা নিয়ে তার বিরুদ্ধে কখনো কেউ কোনো প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা যায়নি। কিন্তু তিনি ‘গ্রুপিং মাস্টার’ হিসেবে বেশ পরিচিত। বলা হয়, তার এই ইনবিল্ড প্রবণতার কারণেই পুলিশ যথাযথভাবে ভূমিকা পালন করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর তার বিদায়ের পর এখন কী বলবে পুলিশ? মনে রাখা প্রয়োজন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব কিন্তু পুলিশের। ফলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়। বরং এ ব্যাপারে গভীরে বিবেচনা করতে হবে। বিবেচনায় নিতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এককভাবে পরিচালনা করছেন? প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার আমলে যিনিই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারে থাকুন না কেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতেন সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিম। আর বর্তমান সরকারের সময় খোদা বকশ চৌধুরী নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে রটনা আছে। তবে ঘটনা যাই হোক, তার পদত্যাগের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আর কোনো অজুহাত থাকবে না। তিনি হয়তো চুক্তিভিত্তিক আইজিপি বদল করতে চাইতে পারেন। যাক, এত উচ্চপর্যায়ের রদবদল নিয়ে ভাবা আমজনতার কম্ম নয়।
জনতার ভাবনা হচ্ছে, জনে জনে অস্ত্র দেওয়ার পেছনে ন্যারেটিভ হিসেবে হয়তো আমেরিকাসহ উন্নত দেশের মডেল কারও মগজে থাকতে পারে। কিন্তু সেই দেশগুলোর মানুষের মনন এবং রাষ্ট্রে কাঠামো কি কোনোভাবেই আমাদের সঙ্গে মেলানো যাবে? উত্তর—এক কথায় নেতিবাচক! এই ব্যবধানের পরও উন্নত দেশগুলোর বৈধ অস্ত্রের ব্যবহার কোন পর্যায়ে ঠেকেছে? এও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ফলে হাতে হাতে অস্ত্র গেলে আমাদের অবস্থা ভয়াবহ হতে বাধ্য। তা হোক বৈধ অথবা অবৈধ অস্ত্র। অন্যরকম বাস্তবতাও আছে। তা হচ্ছে, একটি বৈধ অস্ত্রের কাভারেজে অনেক ক্ষেত্রেই অন্তত দশটি অবৈধ অস্ত্র থাকে। প্রসঙ্গত, একসময় আমাদের দেশের ঘরে ঘরে অস্ত্র হিসেবে ঢাল-সড়কি ছিল। সেই সময়ের পুরো দেশের চিত্র আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নরসিংদীর সঙ্গে মেলানো যায়। এদিকে বলা হয়, উন্নত দেশে জনে জনে অস্ত্রের নেপথ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবসা প্রেশার হিসেবে কাজ করে। আমাদের দেশে কারও কোটি টাকার অস্ত্র ব্যবসায়িক ধান্দা থাকা কিন্তু বিচিত্র কিছু নয়। কথা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান এবং বৈধ অস্ত্র থানায় জমা নেওয়ার একটি ধারা প্রচলিত ছিল। কিন্তু এর উল্টো পথে কি ফল হবে? আর বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন, অস্ত্র দিয়ে অন্যকে ঘায়েল করা যায়, কিন্তু নিজেকে রক্ষা করা যায় না। এটি সাধারণ থেকে অসাধারণ ক্ষেত্রেও বাস্তবতা। এ উপমহাদেশেই এর বড় রকমের উদাহরণ হয়ে আছেন কিংবন্তি ব্যক্তিত্ব মহাত্মা গান্ধী, লিয়াকত আলি খান থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী ও বেনজির ভুট্টো।
এবার কলামের শুরুতে উল্লেখ করা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতা প্রসঙ্গে আসা যাক। এ কবিতার মর্মকথা যুগে যুগে উপেক্ষিত হয়ে আসছে। সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রে অথবা বিন্দুতে আলোকপাত না করে সিন্ধু সিঞ্চনের তোড়জোড় করা হয়। এ প্রবণতা প্রায় সর্বত্রই বিরাজমান। সর্বব্যাপী এ অরাজকতার মধ্যে অবশেষে বর্তমান সরকার রবিঠাকুরের কবিতার মর্মকথা ‘রাজার পদ চর্ম‐আবরণে ঢাকিল বুড়া বসিয়া পদোপান্তে’—একপ্রকার অনুসরণ করার পণ করেছে হয়তো এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাঁধে বন্দুক রেখে বন্দুক বিতরণে মহাযজ্ঞ বেশ স্পষ্ট। কিন্তু পায়ের আর গায়ের বাস্তবতা মোটেই এক নয়! ধুলো থেকে পা রক্ষায় জুতা তত্ত্ব মোক্ষম। কিন্তু এ সূত্রে গুলি থেকে শরীর ঠেকানো যাবে না! আততায়ী গুলি ঠেকাতে রবিঠাকুরের কবিতার হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রীর ধারণাই ধারণ করতে হবে, ‘চামারে তবে ডাকি/ চর্ম দিয়া মুড়িয়া দাও পৃথ্বী।’ জনে জনে গানম্যান অথবা অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া নয়, নিরাপত্তার চাদরে দেশকে মুড়ে দিতে হবে। কিন্তু এটা না করে ব্যক্তিকে অস্ত্র দেওয়ার ব্রত উল্টো বোঝার মতো বিষয়। এ ব্যাপারে প্রচলিত একটি গল্প আছে। এ গল্পের শেষ লাইনটি হচ্ছে, ব্রিটিশ দারোগার সদ্য প্রসব করা ঘোড়ার বাচ্চা কাঁধে নিয়ে চলতে চলতে বৃদ্ধ ও ক্লান্ত ব্রাহ্মণ বলছিলেন, ‘উল্টা বুঝিলি রাম!’ আমাদের অবস্থাও কিন্তু গল্পে বৃদ্ধ ও ক্লান্ত ব্রাহ্মণের মতো। বখেদমতে হুজুরে আলাদের কাছে নিবেদন, বিশিষ্টজনদের রক্ষার নামে আমাদের কাঁধে অস্ত্রের বোঝা আর চাপাবেন না। এমনিতেই আমাদের ওপর অনেক বোঝা চেপে আছে। এর ওপর শাকের আঁটি বহনেরও ক্ষমতা নেই! এ নিয়ে আমরা উদ্বেগে আছি। এদিকে বিপ্লবী হাদির অকাল বিদায়ে শোকের মধ্যেও একটি বিষয় খুবই উদ্বেগের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তা হচ্ছে, সোনার হরিণের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়েও নারায়ণগঞ্জে মাসুদুজ্জামান মাসুদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা। এ কাজ তিনি করেছেন নিরাপত্তা প্রশ্নে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মাসুদদের সংখ্যা বাড়বে—এটি ধরে নেওয়া যায়। এমনিতেই আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীক তথা আওয়ামী লীগ থাকছে না। এর মধ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নে বিএনপির মতো দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি-নেতা সরে দাঁড়ালে আমাদের দেশে কোন মডেলের নির্বাচন হবে? প্রসঙ্গত, ফ্যাসিস্ট হাসিনার রাজত্বে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর মডেলের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত কিন্তু আছে; যা থুতু হিসেবে মানুষ ত্যাগ করেছে। সবাই জানে, মুখের থুতু ফেলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষাক্ত হয়ে যায়, তা আর গ্রহণ করা যায় না। ফলে এটুকু বলা চলে, আওয়ামী লীগের জন্য মতলবি মায়া কান্নাকে এবার কোনোরকম বিবেচনায় না নিয়ে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতেই হবে। তা না হলে ২৪-এর অর্জন তো গোল্লায় যাবেই, ৭১-এর অর্জনও সংকটে পড়তে পারে। এ অবস্থায় সেই প্রবচন বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন—‘সাধু সাবধান!’
লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রম্য লেখক
# দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, শিরোনাম, ‘নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু করতেই হবে’