• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনবিচ্ছিন্ন হলে বটগাছ নিমেষে পাটগাছ হয়ে যায়

দখিনের সময়
প্রকাশিত মার্চ ১০, ২০২৫, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ণ
জনবিচ্ছিন্ন হলে বটগাছ নিমেষে  পাটগাছ হয়ে যায়
নাটক-সিনেমার চিত্রায়ণ অনুসারে সিংহাসন হারিয়ে বন্দি অবস্থায়ও নবাব মির্জা মুহম্মদ সিরাজউদ্দৌলা ক্ষমতায় ফেরার আস্ফালন করেছিলেন। যদিও ইতিহাস এরকম কোনো ঘটনার সাক্ষ্য দেয় না। বরং ইতিহাস বলে, বাগাড়ম্বর করার কোনো সুযোগ নবাব সিরাজ পাননি এবং সিংহাসনে ফেরার কোনো রকম চেষ্টা করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই বন্দি অবস্থায়ই ইংরেজদের ডামি নবাব মীর জাফরের পুত্র মিরনের নির্দেশে নিহত হয়েছেন বাংলার ইতিহাসের ট্র্যাজেডি নায়ক। আর সামগ্রিক বাস্তবতায় সিরাজের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনো সুযোগও ছিল না। এই ট্র্যাজেডি নায়ককে নিয়ে নাটক-সিনেমা-কথামালায় যতই আহাজারি করা হোক না কেন, সেই সময় বন্দি ও নিহত নবাবের ব্যাপারে জনতার কোনো আগ্রহ অথবা ভাবান্তর ছিল না। ইতিহাস এমনটাই বলে।
ইতিহাসের গভীরের শিক্ষা হচ্ছে, জনবিচ্ছিন্ন হলে বটগাছ নিমেষে পাটগাছ হয়ে যায়। ক্ষমতার শক্ত খুঁটিগুলো হয়ে যায় পাটখড়ির মতো। যেমনটি হয়েছে শেখ হাসিনার বেলায়। বলাবাহুল্য, প্রাচীনকাল থেকেই রাজনীতিতে একই প্রবণতা চলে আসছে। সুদূর ও নিকটে অনেক উদাহরণ আছে, ক্ষমতা হারানো ফ্যাসিস্ট শাসকরা আর ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ পান না। তবে নিরাপদ আশ্রয় এবং আশকারা পেলে হম্ভিতম্ভিতে তো কোনো বাধা নেই, যা শেখ হাসিনা করে যাচ্ছেন।
শত-সহস্র বছর পেরিয়ে ক্ষমতায় থাকা, হারানো এবং পরিণতির রাজনীতি মোটামুটি একই ফরমেটেই আছে। শুধু কৌশল ও ধরনে কিঞ্চিৎ হেরফের হয়েছে। এই পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী, ঘটেছে বাংলাদেশেও। দেশের উদাহরণই ধরা যাক। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য তাকে সপরিবারে হত্যা করা গেছে। তার বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরে অনেক অভিযোগের পাশাপাশি অসংখ্য হত্যা-গুমের অভিযোগ ছিল। তার প্রিয় কন্যার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। অবশ্য, কোনো কোনো পর্যবেক্ষক বলছেন, শেখ মুজিবের চেয়ে শেখ হাসিনার অরাজকতা ও নৃশংসতার মাত্রা ছিল বহুগুণ বেশি। শেখ মুজিবের আমলে আর যাই হোক, শিশু হত্যা হয়নি। শেখ হাসিনার বুলেটে শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে। বলা হয়, ১৬ বছরের ঘটনাবলির বাইরে মাত্র ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার নৃশংসতাই তার পরিণতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। জনতা তাকে হাতের কাছে পেলে কী করতে পারত, তার নমুনা কিন্তু ৫ আগস্ট গণভবনে কিছুটা দেখা গেছে। মনে করা হয়, ৭৫-এর চেয়ে ২৪-এর থিঙ্কট্যাঙ্ক অধিকতর দক্ষ ও কৌশলী ছিল। অথবা বিশ্ব পরিস্থিতি হাসিনা সরকারকেন্দ্রিক কর্মপদ্ধতি ও সাফল্যের ধরন নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ কারণেই হাসিনা ‘পালাবার’ সুযোগ পেয়েছেন। আগে-পরে পালিয়েছেন তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা দিল্লিতে আছেন ৫ আগস্ট থেকেই। একটি বিমানে করে তাদের নিয়ে দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দোন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর আগে সুরক্ষিত গণভবন থেকে ধীরলয়ে বেরিয়ে গাড়ি থেকে নেমে হেলিকপ্টারে ওঠার দৃশ্য তো ভাইরাল। এ ঘটনাবলি অবশ্য গভীর রাজনীতির বিষয়।
দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, ৯ মার্চ ২০২৫, শিরোনাম, “স্বপ্নবিলাস ও নানান শঙ্কা”