• ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনেকেরই আমলনামা ভারী হয়ে গেছে

দখিনের সময়
প্রকাশিত মার্চ ১২, ২০২৫, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ণ
অনেকেরই আমলনামা ভারী হয়ে গেছে
রাজনীতির সাধারণ আলোচনায় বেশ প্রাধান্য পাচ্ছে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ। পাশাপাশি আছে বিভিন্ন রকমের আশঙ্কাও। বিরাজমান ঘটনাবলি নিয়ে নানান ন্যারেটিভ তো আছেই। আর মানুষ শুধু পলাতক ফ্যাসিস্টদের কুষ্টিনামা নিয়ে পড়ে নেই। সবার বিষয়েই চোখ-কান খোলা রাখছে। ফলে এরই মধ্যে অনেকেরই আমলনামা বেশ ভারী হয়ে গেছে। এটি কেউ কেউ জানেন। আর সবাই জানেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটা বড় অংশ ভারতে পালিয়ে গেছে। অনেকে পালিয়েছে সন্ত্রস্ত হয়ে রুদ্ধশ্বাসে, কেউ কেউ পালিয়েছেন সমঝোতায়, অনেকটা নির্ভয়ে গজেন্দ্র চালে। যেন সেই গান, ‘মেলায় যাইরে..।’ এসব এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। অথচ কেউ তা খোলাসা করে বলছেন না। শত শত লোক পালিয়ে যাওয়া নিয়ে নানান রকমের ধোঁয়াশাও আছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের ভাষায়, ‘ঠিক পালানো বলা যায় না। কৌশলগত কারণে সাময়িক আত্মগোপন।’ যদিও রাজনীতির কোনো পরিভাষায়ই একে আত্মগোপন হিসেবে আখ্যায়িত করার উপায় নেই। বরং এসব কর্থাবার্তা দেশের অভ্যন্তরে এখনো কায়ক্লেশে টিকে থাকা কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার এক ধরনের চেষ্টা, যা ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যার অকাট্য প্রমাণ, ১৮ ফেব্রুয়ারি আহূত আওয়ামী হরতাল। ওই দিন হরতালের ‘হ’ও দেখেনি দেশবাসী। টের পায়নি কাকপক্ষিটিও! হয়তো এটি ছিল বড়জোর গায়েবানা হরতাল।
আওয়ামী লীগের যেসব নেতা ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের একটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে আছেন। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় আছেন অনেকেই। কেউ দিল্লিতে, কেউ আবার ত্রিপুরায় বাসা ভাড়া নিয়ে বেশ আয়েশেই আছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। আবার ইউরোপসহ অন্যান্য দেশেও আওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কেউ অবস্থান করছেন। তাদের কেউ ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর গেছেন, কেউ গেছেন কয়েক মাস পর। প্রকাশিত খবর অনুসারে, প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে অন্তত ২০০ জন পশ্চিমবঙ্গে বাস করছেন। এই নেতাদের মধ্যে আছেন দল এবং সাবেক সরকারের শীর্ষ পদের ও মন্ত্রী, আছেন সংসদ সদস্যরাও। তাদের সংখ্যা প্রায় শ ছুঁইছুঁই। আছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়র এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারাও। এমনকি আওয়ামী লীগের অনেক জেলা সভাপতি-সম্পাদকও ভারতে অবস্থান করছেন। উপজেলা স্তরের সভাপতি-সম্পাদক, জুনিয়র এবং কম গুরুত্বপূর্ণ আওয়ামী লীগ নেতাদের সংখ্যাটা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী নয়, দেশান্তরিতদের মধ্যে অছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, পুলিশের কর্মকর্তাও। সব মিলিয়ে ৫ আগস্টের পর বিদেশের মাটিতে আওয়ামী লটবহর কিন্তু কম নয়। তাদের নিয়ন্ত্রণে বেশুমার লুটের টাকা থাকার বিষয়টি একেবারে ওপেন সিক্রেট।
দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, ৯ মার্চ ২০২৫, শিরোনাম, “স্বপ্নবিলাস ও নানান শঙ্কা”