• ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সম্পর্ক—আইন সাংবিধানিক তো?

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ৪, ২০২৫, ১৭:১৫ অপরাহ্ণ
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সম্পর্ক—আইন সাংবিধানিক তো?

ছবি: সংগৃহীত

দখিনের সময় ডেস্ক:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশে সদ্য সন্নিবেশিত ‘বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্ক স্থাপন’ সংক্রান্ত ধারা ৯(খ) কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রোববার (৪ মে) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রুলে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয় ২৫ মার্চ প্রকাশিত একটি গেজেট, যেখানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫–এ ধারা ৯(ক)-এর পর ৯(খ) যোগ করা হয়। তাতে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ১৬ বছরের বেশি বয়সী কোনো নারীর সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আস্থাভাজন সম্পর্কের ভিত্তিতে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন (শারীরিক জোরপূর্বক নয়), তবে তিনি সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই ধারা নিয়ে বিতর্কের মূল বিষয় হলো—এটি পুরুষদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টভাবে ব্যবহৃত হতে পারে কি না।
রিটকারীরা যুক্তি তুলে ধরেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মতো একটি বিষয়কে একতরফাভাবে পুরুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা সাংবিধানিক সমতার পরিপন্থী। এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, বিশেষত ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সম্পর্ক স্থাপন সবসময় প্রতারণা নয়, বরং এটি দুজন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতির ভিত্তিতে হতে পারে। তাই শুধুমাত্র একজনের প্রতিশ্রুতি না রাখাকে অপরাধ হিসেবে দেখানো সংবিধান বিরোধী। এ কারণেই এই বিধান বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।