• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার লড়াইয়ে নারীদের ঘোষণা

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ১৬, ২০২৫, ১৯:২৩ অপরাহ্ণ
অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার লড়াইয়ে নারীদের ঘোষণা
দখিনের সময় ডেস্ক:
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ কর্মসূচিতে নারীদের অধিকার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উসকানি ও গুজব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন জুলাই শহীদ পরিবারের তিন নারী সদস্য। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ঘিরে গুজব ও অপপ্রচার, ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে ভয়ভীতি ছড়ানো এবং নারী ও প্রান্তিক জনগণের ওপর সহিংসতার হুমকি ঠেকাতে সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ঘোষণা দেওয়া হয়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কিংবা সংস্কারের আহ্বানে যারা জনসমর্থন চায়, তাদের নারী, শ্রমিক, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। বিশেষভাবে দাবি করা হয়, আসন্ন নির্বাচনগুলোয় প্রার্থীদের অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী হওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবাদকারীরা জানান, ইতিহাসবিচ্ছিন্ন কূপমণ্ডূকতা ও দমনমূলক ধর্মীয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমাজে যে সহিংসতা, বিভ্রান্তি এবং বৈষম্য চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে—তা কোনোভাবে বরদাশত করা হবে না। তারা বলেন, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বৈচিত্র্যকে সম্মান না করে সংকীর্ণ মতবাদ চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। নারী অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ধরনের দ্ব্যর্থকতা বা দোদুল্যমান অবস্থান মেনে নেওয়া হবে না। সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের নারী বিষয়ে অবস্থান জনগণের নজরদারিতে থাকবে বলেও জানানো হয়।
‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারী সংহতি, উদীচী, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, হিল উইমেন্স ফেডারেশনসহ বহু সংগঠন সংহতি জানায়। মিছিলটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে ইন্দিরা রোড ঘুরে একই স্থানে ফিরে আসে। অংশগ্রহণকারীরা ‘পাহাড় থেকে সমতলে, লড়াই হবে সমান তালে’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’ প্রভৃতি স্লোগানে উত্তাল করে তোলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক। কর্মসূচির মাধ্যমে নারীরা জানিয়ে দেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তারা কোনোভাবেই হাল ছাড়বেন না।