আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর একটি বড় অংশ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ হাজার ৫০৬টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব মামলা বাতিলের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুসরণ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে—যারা মামলাগুলোর প্রকৃতি যাচাই করে সুপারিশের ভিত্তিতে এগুলো প্রত্যাহারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
সরকারি সূত্র বলছে, যারা হয়রানিমূলক মামলার ভুক্তভোগী বলে মনে করেন, তারা ব্যক্তি পর্যায়েও আবেদন করতে পারবেন—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন কমিটিতে উপস্থাপন করা হয় এবং ভেটিং শেষে জেলা পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের আওতাধীন মামলাগুলো আলাদাভাবে যাচাই করে কমিশনের লিখিত অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য নিরপরাধ ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক কর্মীদের অনর্থক হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা।