• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্র ইস্যুতে ড. ইউনূসকে ৪৩ অস্ট্রেলীয় এমপি-সিনেটরের চিঠি

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ২১, ২০২৫, ১৯:৪২ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্র ইস্যুতে ড. ইউনূসকে ৪৩ অস্ট্রেলীয় এমপি-সিনেটরের চিঠি
দখিনের সময় ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টের ৪৩ জন সিনেটর ও এমপি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এক যৌথ চিঠিতে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং র‍্যাব বিলুপ্তির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো না নিলে জনআস্থা আরও দুর্বল হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রেখে চলছে এই সরকার কীভাবে সামনে এগোয়। বিশেষ করে, “জুলাই বিপ্লব” নামে পরিচিত আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচন নিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য রোডম্যাপ ঘোষণার মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন জরুরি।
চিঠিতে সিনেটররা দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি কমিউনিটি তাদের জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় তারা। নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে, যাতে সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পায়। তারা মনে করিয়ে দেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেনি এবং তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করেছে। চিঠিতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে ২০০৯ সাল থেকে ২,৬৯৯ জনকে বেআইনিভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তারা র‍্যাব বিলুপ্তির পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের দাবি জানান এবং এর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, “এই সময়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হলে সাহসী ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বিশেষ করে নির্বাচনের বিষয়ে।” তারা বলেন, একটি স্বচ্ছ, সময়সীমাবদ্ধ ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নির্বাচনই কেবল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করতে পারে। সিনেটররা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই চিঠিটি প্রধান উপদেষ্টার অফিসে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হক নিশ্চিত করেছেন।