• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাপে প্রধান উপদেষ্টা, পদত্যাগের ইঙ্গিত

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ২৩, ২০২৫, ২০:২২ অপরাহ্ণ
চাপে প্রধান উপদেষ্টা, পদত্যাগের ইঙ্গিত
দখিনের সময় ডেস্ক:
দেশের চলমান অস্থির পরিস্থিতিতে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে একটি অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি কাজই না করতে পারেন, তাহলে পদে থেকে লাভ কী? একাধিক উপদেষ্টা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতা ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এমন পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করার বিষয়েও চিন্তা করছেন।
বৈঠকে ইউনূস সরাসরি বলেন, প্রতিদিন সড়কে আন্দোলন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাব, সংস্কারের কার্যক্রমে অগ্রগতির ঘাটতি—সব মিলিয়ে প্রশাসন কার্যকরভাবে এগোতে পারছে না। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হয়, ব্যালট ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে পুলিশ–প্রশাসন কি তা ঠেকাতে পারবে?” একপর্যায়ে তিনি পরামর্শ দেন যেন অন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়, কারণ তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তাবও আসে, যেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও অসহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল। এমনকি একটি খসড়াও তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ভাষণ প্রচারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সেদিন সন্ধ্যায় যমুনা ভবনে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, ইউনূস সত্যিই পদত্যাগের কথা ভাবছেন এবং পরিস্থিতি তার জন্য ‘কঠিন ও জিম্মিকর’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “স্যার বলেছেন, আমি যদি কাজই না করতে পারি, যদি আমার হাতে কিছু না থাকে, তবে এখানে থাকার মানে কী? পরিবর্তনের জন্য আমাকে নিয়ে এসেছিলে, কিন্তু আমাকে যেভাবে চেপে ধরা হচ্ছে, তাতে কাজ করা সম্ভব নয়।” তবে তিনি ইউনূসকে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় উনি যেন শক্ত থাকেন। আমরা আশা করি সব পক্ষ তাঁর পাশে দাঁড়াবে এবং সংলাপের মাধ্যমে পথ খুঁজে বের করবে।”