• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমপেক্স খামারের উদ্যোগে সাশ্রয়ী দামে কোরবানির গরু সরবরাহ

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ২৩, ২০২৫, ২০:৪৬ অপরাহ্ণ
ইমপেক্স খামারের উদ্যোগে সাশ্রয়ী দামে কোরবানির গরু সরবরাহ
দখিনের সময় ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মাধবপাশায় গড়ে ওঠা ইমপেক্স এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম এ বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে যেভাবে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে, তা দেশের পশু খামার ব্যবস্থার জন্য এক দারুণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখানে শুধু উচ্চমূল্যের গরু নয়, ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেশি জাতের সুস্থ, হৃষ্টপুষ্ট কোরবানির গরু। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও বিত্তবানদের জন্য এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়েছে উন্নত জাতের মহিষ, খাসি ও ভেড়াও, যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে যথাক্রমে ৪.৫ লাখ, ১৫-২০ হাজার ও ১০-২৫ হাজার টাকায়।
চলমান বাজারে গরুর দাম যখন দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে, তখন ইমপেক্স খামার প্রতারণামুক্ত ও সাশ্রয়ী মূল্যে গরু বিক্রি করে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। খামারটির প্রতিটি পশু লালন করা হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবস্থায়—কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, খড়, গমের ভুষি ও ছোলা মিলিয়ে ৩১ প্রকার খাবারে। খামারে মোটা-তাজাকরণের কোনো কৃত্রিম উপায় ব্যবহার হয় না এবং প্রতিটি গরুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে রয়েছে অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসক। এমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু কেনার অভিজ্ঞতা ভিন্ন রকম স্বস্তি এনে দেয়।
একই সঙ্গে খামারটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—গরু কেনার পর ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা খরচে পশু রাখার সুযোগ। ফলে যাঁদের বাড়িতে জায়গার সংকট, তাঁরাও নিশ্চিন্তে এখান থেকে গরু কিনে রাখতে পারেন। এই ব্যবস্থার জন্য প্রতিদিন রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসছেন খামারে। অনেকে আবার আগেভাগেই বুকিং দিচ্ছেন, এমনকি ভিডিও কলে দেখে পছন্দ করে নিচ্ছেন পশু।
খামারটির মালিক সাইফুল ইসলাম শ্যামল বলেন, “আমি প্রতারণা করে ব্যবসা করি না। যেটা বলব, সেটাই পাবেন। বরং বেশি পাবেন। ওজনে যদি কম হয়, আমি নিজেই ক্ষতিপূরণ দেব।” তাঁর সততা ও প্রতিশ্রুতির কারণে পুরোনো ক্রেতারা বারবার ফিরে আসছেন, এবং নতুন ক্রেতাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অগাধ আস্থা। সাইফুলের ভাষায়, “এই আস্থা ধরে রাখাই এখন আমার মূল চ্যালেঞ্জ।”