
দখিনের সময় ডেস্ক:
যানজটে হাঁসফাঁস করা রাজধানীবাসীর স্বপ্নপূরণ হিসেবে যাত্রা শুরু করে মেট্রোরেল। কিন্তু উদ্বোধনের দুই বছর পেরোলেও এখনো ছয় কোচেই আটকে আছে ঢাকার এই অত্যাধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা। যাত্রীদের প্রত্যাশা ছিল স্বস্তির যাত্রা, কিন্তু বাস্তবে দাঁড়িয়ে তারা পাচ্ছেন গাদাগাদি, দীর্ঘ অপেক্ষা আর প্রতিনিয়ত ভোগান্তি। ট্রেনের দরজার সামনে ঠেলাঠেলি, স্টেশনে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন—সব মিলিয়ে স্বপ্নের মেট্রোরেল এখন রীতিমতো এক পরীক্ষার মাঠ।
প্রতিদিন যাত্রীর চাপ বাড়লেও কোচ সংখ্যা বাড়ানোর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (DMTCL) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, ৮ কোচ চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে সিগন্যালিং সিস্টেম ও কনস্ট্রাকশনে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, যার জন্য সময় লাগবে অন্তত এক থেকে দেড় বছর। তার ভাষায়, “ইট ইজ নট দ্যাট ইজি।” তিনি আরও জানান, মূল পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের পর কোচ বাড়ানোর কথা থাকলেও যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় বিষয়টি এগিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ দিয়ে যাত্রা শুরু করে মেট্রোরেল। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে মতিঝিল পর্যন্ত সম্প্রসারণ হয়। তবে যাত্রার প্রতিশ্রুতি আর যাত্রী অভিজ্ঞতার মাঝে তৈরি হচ্ছে বিশাল ফারাক। প্রতিদিন অফিসগামী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণির মানুষকে ভোগতে হচ্ছে কোচ সংকটের বিড়ম্বনা। যাত্রীরা বলছেন, ট্রেন ও কোচ সংখ্যা না বাড়ালে এই আধুনিক ব্যবস্থার সুফল পুরোপুরি ভোগ করা সম্ভব নয়। তারা চান দ্রুত ব্যবস্থা ও পরিষ্কার টাইমলাইন, যেন সাধের মেট্রো আর বিরক্তির প্রতীক না হয়ে উঠে সত্যিকারের স্বস্তির বাহন।
Post Views: ১২৩