সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের কারণে এ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের ১০৮ জন চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। এর মধ্যে ৩৭ জন চেয়ারম্যান ও ৭১ জন মেম্বার। তবে এদেরর মধ্যে অনেকেই উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়ে স্বপদে বহাল আছেন।
এদিকে সারাদেশে দুর্নীতিবাজ অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বররা এখনও অধরাই থেকে গেছেন। অনেকে নানান ভাবে ম্যানেজ করে নিজকে রক্ষা করছেন। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্রেখ্যযোগ্য হচ্ছেন, বরিশার সদর উপজেলার একজন এবং বানারীপাড়া উপজেলার একজন চেয়ারম্যান। বরিশাল সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানে বিরুদ্ধে নানান গুরুতর অভিযোগে সম্প্রতি মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দাখিল হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। একসময় তার নামের সঙ্গে ‘গুন্ডা’ শব্দটি সংযুক্ত থাকা এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, নিজে এবং ছেলেদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করা এবং নানান প্রলোভনে ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের কিশোরীদের বিয়ের নামে দীর্ঘদিন ধর্ষন করা ও পরে তালাক দেয়া। এর সঙ্গে রয়েছে সরকারি টাকা ও ত্রাণ আত্মসাত করা। এদিকে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার এক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের কর্মসূচীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীকে তথ্য প্রদান না করার অভিযোগে এরই মধ্যে ফেঁসে গেছেন বানারীপাড়া উপজেলার সাবেক ও বর্তমান উপজেলার দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। এই দুই পিআইও-কে ১২ নভেম্বর তিন হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দিয়েছে তথ্য কমিশন।
সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানদের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা সেবনের সময় পুলিশের হাতে ধরাপড়া, ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের দায়ে র্যাবের হাতে গ্রেফতার, ভিজিডি কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা চাল আত্মসাতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাত, বাসস্টান্ডে চাঁদাবাজীর দায়ে গ্রেফতার হওয়াসহ নানান অভিযোগ।
ইয়াবা সেবনের সময় সরঞ্জামাদিসহ পুলিশের কাছে হাতেনাতে গ্রেফতার হন বরগুনার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় ফৌজদারি মামলা হয়। এজন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের দায়ে র্যাবের হাতে গ্রেফতার ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৪নং যাদবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভিজিডি কর্মসূচির প্রায় সাড়ে সাত টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ এবং ঘূর্ণিঝঢ় আম্পানের সময় দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা চাল আত্মসাতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৫নং বানা ইউপি চেয়ারম্যান হাদী হুমাযুন কবীরকে। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হেয়েছে। বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা ৫নং বুড়বুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. রকনুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভিজিএফের (মৎস্য) চাল বিতরণে অনিয়ম, জেলেদের ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে সরকারি চাল আত্মসাৎ এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের নামে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বরগুনার সদর উপজেলার ৯নং বালিয়তলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর মো. শামীম গাজীকে সাময়ক বরখাস্ত করা হয়েছে। ত্রাণের দাবিতে সাধারণ জনগণকে নিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অফিস ভাংচুরের উস্কানি দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৭নং পীরগাছা ইউনিয় মেম্বার মো. ফিরোজ সরকারকে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়াও, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড দেয়ার নামে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে পলাতক থাকায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৯নং আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল ইসলাম মিন্টু। সাময়িক বরখাস্তকৃতদের বেলায়ও রয়েছে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ।
এদিকে বরিশাল সদর উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান বাসস্টান্ডে চাঁদাবাজীর দায়ে গ্রেফতার হওয়াসহ নানান অভিযোগ সময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান এই ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত হবার পর বরিশালের একটি দৈনিক পত্রিকার নিযন্ত্রণ নিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।