Home মতামত করোনাকালে এসব সিদ্ধান্ত নেয় কারা, ভারত থেকে ফেরার বিশেষ অনুমতি কেন?

করোনাকালে এসব সিদ্ধান্ত নেয় কারা, ভারত থেকে ফেরার বিশেষ অনুমতি কেন?

সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবারও ঘরে বসে ঈদ উদযাপন করতে হবে। ঈদে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করতে হবে। এক বাসা থেকে অন্য বাসায় খাবার আদান-প্রদান করা যাবে না। ঈদের সেলামি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে অথবা অনলাইনের বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বলা হয়েছে। বৈশ্বিক করোনা মহামারির জন্য এই নির্দেশনা।

আর বাংলাদেশ? করোনা উপেক্ষা করে শপিংমল খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ব্যাস ক্রেতাদের ভীর, ঈদের সময় বলে কথা! চালু করা হয়েছে গনপরিবহন, এতে চলছে গণঅনাচার। ফেরিতে চিড়ে চেপ্টা হয়ে পার হয় মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা বলে একটা প্রবচন আছে না। অবস্থা বেগতিক দেখে আজ শনিবার(৮মে) সরকার বাহাদুর এলান করেছেন, দিনের বেলা ফেরী চলাচল করবে না, পন্য পরাপার হবে রাতে। ভাবখানা এই, রাতের ঘুম নষ্ট হবার ভয়ে মানুষ ফেরিতে উঠবে না। কী উর্বর ভাবনারে! যে মানুষ করোনা ভাইরাসকে ভয় করে না, সেই মানুষ ঘুম নষ্ট হবার ভয়ে থাকবে ঘরে? এরা বাপের নাম খগেন করে ছেড়ে দেবেনা! আমরা কোন কিছুকে ভয় করিনা!

বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের ভয় করা উচিত। বৈশ্বিক করোনা মহামারির বিশ্বকে এলামেলো করেদিয়ে ভারতকে লন্ডভন্ড করার চলমান তান্ডবের মধ্য রেখেই নেপালে হানা দিয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে থাকতে পারে বাংলাদেশেও।

বেশ আগে থেকেই লাগাতরভাবে সতর্ক করা হচ্ছে, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়াতে পারে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশেও। এই সতর্কবার্তা আমলে নিয়ে সুদূর অস্ট্রেলিয়া সতর্ক হয়েছে। বলেছে, ভারত থেকে সে দেশে যাওয়া যাবে না, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও না। গেলে পাঁচ বছরের জেল. সকাল, সঙ্গে জরিমানা!

কিন্তু বাংলাদেশ? ভারত ফেরত বাংলাদেশীদের কোয়ারেন্টাইনে হিমশিম খাচ্ছে যশোর প্রশাসন। এ জেলায় বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টাইনে ভারত ফেরত বাংলাদেশীরা  সংখ্যা সহস্রাধিক। এছাড়া, যশোরের আশপাশের চার জেলা, সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝিনাইদহ ও নড়াইলের হোটেলগুলোও কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে। অনেকের দেহে মিলছে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট। এরপরও স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র বলছেন, আরো কিছু দিন সময় লাগবে বিষয়টি জানতে। হায় সরকারী কর্মকর্তা!

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর হচ্ছে, বাংলাদেশ সীমান্তের ভারতীয় রাজ্যগুলোতে করোনা বাড়ছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু দুটোই হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। ভারতের মহামারি এখন ক্রমশ পূর্ব দিকে এগোচ্ছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে। আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার- পূর্ব ভারতের এই পাঁচটি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপদকালীন বৈঠকের পরই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য করা হয়েছে। যদিও দক্ষিণ, পশ্চিম বা উত্তর ভারতের তুলনায় পূর্ব ভারতের পরিস্থিতি এতদিন কিছুটা ভালো ছিল। কিন্তু তা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে।

দিল্লিতে জারি করা এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, ‘যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ এদিকেই দিকনির্দেশ করছে যে, কোভিড মহামারি এখন ক্রমশ পূর্ব দিকে এগোচ্ছে। দেশের (পূর্ব প্রান্তের) এই রাজ্যগুলোতে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যেমন বাড়ছে মৃত্যু হারও।’ বিহারে সোমবারেও মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ১১ হাজার। গত মাসের শেষ সপ্তাহেও সেই গড় ছিল দশ হাজারের নিচে। অথচ সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারে ছাড়িয়েছে। আসামে সপ্তাহদুয়েক আগেও দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজারের নিচে। এখন তা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। পশ্চিমবঙ্গেও মাত্র দিন দশেক আগেও প্রতিদিন ১০/১২ হাজার করে নতুন কোভিড রোগী শনাক্ত হচ্ছিলেন। এখন সেখানেও দৈনিক সংক্রমণ ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গকে বিভিন্ন ইস্যুতে বলা হয় এপার বাংলা-ওপার বাংলা। সেই ওপার বাংলার অবস্থা কিন্তু এরই মধ্যে করোনায় চরম উদ্বেগজন করে তুলেছে। এখনো কী আমাদের সাবধান হওয়া উচিত না? নাকি আনন্দ আর বিভিন্ন চাপে ধাপেধাপে করোনার তান্ডবে আমরা ভারতের সমপর্যাযে অথবা ছাড়িয়ে যেতে চাই ভারতকেও!

খবর: নিষেধাজ্ঞার ১২তম দিন (শুক্রবার) পর্যন্ত ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ২ হাজার ১৬৮ জন। ফেরত আসা এসব যাত্রীর মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিল ১২ জন। সবশেষ শুক্রবার ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ২৭৬ জন। তাদের মধ্যে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উল্রেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে ভারত সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এর মধ্যেও বেনাপোল দিয়ে দেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে নাগরিকদের। এই বিশেষ অনুমতি কেন?

আর একটি প্রশ্ন, ঈদ সামনে রেখে মানুষ মুরগী ঠাসা হয়ে বেশ কয়েক ট্রিপ ফেরী পারাপারে পরে দিনে ফেরী বন্ধ রেখে রাতে পন্য পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেন কোন কর্মকর্তারা? তারা কী ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের চেয়েও মেধাবী। গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ করার দায়ে এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য  গুনধর এই নির্বাহী কর্মকর্তা চারদিন ধরে এক নছিমন চালককে আটকে রেখেছিলেন তার অফিসে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার দুই এসআই ক্লোজড

দখিনের সময় ডেস্ক বরিশালে মে‌ট্রোপ‌লিট‌নের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের দুই উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ক্লোজড করা হয়েছে। ক্লোজডকৃত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহীম খলিল...

হেঁচকি যাচ্ছে না?

দখিনের সময় ডেস্ক: হেঁচকি বা হিক্কার সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। জীবনে কখনো হেঁচকি হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটা একটা কষ্টকর ও...

যে ছয় উপায়ে নিজের যত্ন নেবেন

দখিনের সময় ডেস্ক: সংসার, সন্তান প্রতিপালন, চাকরি আর নানা দায়িত্বের বেড়াজালে দম ফেলার ফুরসত নেই। কিন্তু এর মাঝেই বেঁচে থাকার রসদ আর অনুষঙ্গ বের করে...

হৃদ্‌রোগকে দূরে রাখতে

দখিনের সময় ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ হৃদ্রোগ। অনেকটা নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে এ রোগ। একদিন হঠাৎ ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা। আবার মৃদু...

Recent Comments