• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সন্তানের জন্যও যা করে না তাও প্রতিমন্ত্রী আমার জন্য করেছেন: মাহবুবুর রহমান মধু

দখিনের সময়
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২১, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সন্তানের জন্যও যা করে না তাও প্রতিমন্ত্রী আমার জন্য করেছেন: মাহবুবুর রহমান মধু
সংবাদটি শেয়ার করুন...
কাজী হাফিজ ।।

সুমসময়ে বন্ধু বটে অনেকের হয়, অসময়ে হায় কেউ কারো নয়। প্রচিলত এ  ভাবসম্প্রসারণের মর্মার্থ হলো ভালো সময়ে মানুষের চারপাশে শুভাকাঙ্ক্ষীর অভাব হয় না। প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী চেনা যায় বিপদ, বাধা বিপত্তির সময়।
রাজনীতিতে এবং মন্ত্রিপরিষদে পানি সম্পদ  প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীমের এখন যে সুসময় চলছে সেটা স্পষ্ট । আর এখন তার অসংখ্য নেতা কর্মী রয়েছে, থাকাটাই স্বাভাবিক । কিন্তু একটু যদি বছর কয়েক আগে ২০১৮ এর নির্বাচনে যাওয়া যায় যখন তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়নপত্র ক্রয়ের জন্য যান তখন তার সাথে প্রাথমিক ভাবে বরিশাল আওয়ামীলীগের খুব কম নেতাকর্মীই ছিলেন । সেসব কর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন  এডভোকেট মাহাবুবর রহমান মধু।
এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মধুর সাথে কথা হয় ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে  উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান  কার্যালয়ে। তিনি বরিশাল সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং বরিশাল বারের সদস্য। ছাত্র রাজনীতি থেকেই তার  রাজনীতিতে আসা৷ ৮ম শ্রেণি থেকেই ছাত্রলীগের মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। বাবা ও বড় ভাইয়ের কাছে শোনা বঙ্গবন্ধুর গল্প  এবং  প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বক্তব্য তাকে আওয়ামীলীগের প্রতি  আকৃষ্ট করেছিলো। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে আন্দোলনে  ছিলেন সক্রিয়। ২০০০ সালে ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালীন  হরতালের সময় শাহাবাগ মোড় থেকে আটক করা হয় তাকে। সে সময় ছাত্রলীগের আরও ১১ জন জাতীয় নেতারাও আটক হন। শাহাবাগ থেকে রমনা থানায় নেওয়া হয় তাদের। এ ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ” আমাদের সাথে দুজন নারী নেত্রীও ছিলেন। ১৯৭১ সালে যেভাবে নির্যাতনের কথা শুনেছি সেভাবেই আমাদেরকে অত্যাচার করা হয়েছিলো থানায়। আমাদেরকে তখন চোখে কালো কাপড় বেধে টর্চার করা হয়৷

তার ছাত্রলীগ করার বয়স শেষ হলে বরিশাল আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।
বরিশালে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং বর্তমানে অনেকটাই স্পষ্ট । এ গ্রুপিং এ মাহাবুবর রহমান মধু ছিলেন এবং আছেন বরিশাল সদর-৫ আসনের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল(অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এর দলে ৷ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ভাইয়ের নির্দেশে, হিরন ভাইয়ের নির্দেশে  ২০০৮ সালে হিরন ভাইয়ের নির্বাচনে কাজ করে যাই। হিরন ভাইয়ের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়৷
হিরন ভাইয়ের নির্বাচনে জয়ী হবার কিছু দিন পরেই সংসদ নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আমাকে হিরন ভাই একটা দায়িত্ব দেন।
হিরন ভাইয়ের বাসায় রাত ১ টার দিকে আমাকে ডাকেন। তখনই আমার সাথে বরিশাল সদর-৫ আসনের বর্তমান  সংসদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম সাহেবের সাথে পরিচয় হয়। এর আগে আমার সাথে তার সাথে আদৌ কোনো পরিচয় ছিলো না। ২০০৮ সালে হিরন ভাই আমাকে বলেন ‘ তোমাকে ১৮ ঘন্টা জাগতে হবে। আমি তোমার থেকে বড় আমি ২০ ঘন্টা জাগতে পারলে  তুমিও পারবে।’
আমিও ভাইয়ের কথা মতো সেভাবে কাজ করে যাই।  কিন্তু দূর্ভাগ্য সেই নির্বাচন প্রতিমন্ত্রী মহাদয় সামান্য কিছু ভোটে হেরে যায়।

প্রশ্নঃ ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে কীভাবে আসা হলো ?
উত্তরঃ দলে অনেক সময় দিয়েও সেভাবে কমিটিতে তেমন ভাবে আসতে পারেনি। সেই সময় প্রতিমন্ত্রী মহাদয়কে বিভিন্ন সময়ে অনেকে অনেকভাবে বাধা দিতো। আমি মনের দিক থেকে গায়ে পরেই তাকে সময় দেই। তখন তিনি আমাকে বকাও দিতেন তোমার পরিবার আছে ওকালতি করো নিজের কাজও তো করা দরকার।
পরবর্তীতে আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি ২০১৮ সালে  বরিশাল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন এবং জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেন।
হাজার হাজার নেতাকর্মী তার জন্য কাজ করেছেন সেই হাজার হাজার কর্মীর ক্ষুদ্র একজন হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করি৷

প্রতিমন্ত্রী মহাদয় আমাকে ডেকে বলেন, “বরিশাল সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করো৷ আমি হাসানাত ভাইয়ের সাথে কথা বলবো। অন্যান্য যারা আছেন তাদের সাথেও কথা বলবো। সকল দায়িত্ব আমার৷” সন্তানের জন্যও যা করে না তাও প্রতিমন্ত্রী আমার জন্য তা করেছেন।
পরবর্তী সময় ২০১৯ সালের ২৪ সে মার্চ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসে দায়িত্ব পাই।

প্রশ্নঃ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা কেমন?

উত্তরঃ ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদেরকে উপজেলা চেয়ারম্যানরা সেভাবে মূল্যায়ন করে না। তবু আমি জনগণের স্বার্থে প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা বলে কাজের ব্যবস্থা করি।  হুক্কার চর, নলচর, চন্দ্রমোহন সব জায়গায় আমি ছুটে বেড়াই৷ নিজে পায়ে হেটে, ভ্যানে আবার কখনও ভলেন্টারি বাইক সার্ভিসে আমার নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করি আমার দলের জন্য, মানুষের জন্য। গত তিন মাস আগেও নলচরে বিদ্যুৎ ছিলোনা, ডিপ টিউবওয়েল ছিলোনা, রাস্তাঘাটের অবস্থা তেমন ভালো ছিলো না। আমি সে বিষয়টি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহাদয়কে অবহিত করি এবং এখন সেখানে বিদ্যুৎ আছে রাস্তাঘাটের কাজ চলছে। এডিবির একটা প্রকল্প থেকে ৫ লক্ষ টাকা পাই সেখান থেকে ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে বুখাইনগর, নলচর এবং মেহেন্দিগঞ্জের একটি রুট সেখানে খেয়াঘাট তৈরির কাজ করছি যা দিয়ে বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছে। বাকি ২ লক্ষ টাকা দিয়ে চরকাউয়ায় একটি কালভার্ট নির্মান করেছি।

তিনি আরও বলেন,  গ্রামে এখন ডিপটিউবওয়েলের দরকার নেই৷ এই টিউবওয়েলের সাথে যদি কিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সিটির মতো পানি সার্ফেজ ওয়াটারের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে খুব ভালো হয়। বিভিন্ন স্থানের টিউবওয়েল পানি ওঠেনা। পানির স্তর টা বাঁচানো দরকার আগামী প্রজন্মের জন্য।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
সারা বাংলাদেশের ইউএনও সাহেবরা কোনো ভাইস চেয়ারম্যানকে ডিস্টার্ব করে না। আমি এটা সব জায়গাতেই বলতে পারবো। আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যানরাই আমাদের মূল্যায়ন করে না।  ইউএনও সাহেবরা আমাদের সকল দাবিই রেখেছেন। অনেক সময় অনেক দাবি পূরণ করাও যায় না তাও তিনি সেটা পূরণ করার চেষ্টা করেন।

তার রাজনৈতিক অবস্থান বর্ননায় তিনি বলেন, “আমার ধ্যানে জ্ঞানে এই ৩৫ বছরে নিজেকে একজন সৎ আদর্শবান কর্মী হিসেবে মনে করি।আওয়ামী লীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে কাজ করতে পেতে আমি গর্বিত ।  আমি জোর দিয়ে বলতে পারবো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনেই আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে আমার আবেদন উন্নয়নের ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য আমাদের মানে ভাইস চেয়ারম্যানদের সুযোগ সুবিধা যদি একটু বাড়ানো যায়,তাহলে আমরা জনগণের সেবায় আরও কাজ করতে পারবো।