দেশের একদল মানুষ নিজেদের সবরকম ক্ষতি স্বীকার করে লকডাউন মানবে, আরেকদল কোনকিছুই মানবেনা তা হতে পারেনা। গুটিকয়েক আনরুলি বেকুবের কারণে পুরো দেশের মানুষ বিপদে পড়বে এটা কখনোই গনতন্ত্র নয়। সরকারকে এখনই ঠিক করতে হবে কি করবে! হয় চরম হার্ড লাইন নয়তো লকডাউন প্রত্যাহার।
এক্ষেত্রে সরকারের ভুলের মাশুল দিতে হবে পুরো জাতিকে। আমাদের সন্তানদের দিতে হবে চরমমূল্য। তাই অবশ্যই হার্ডলাইনে যেতে হবে। সেজন্যও দরকার বাড়তি পদক্ষেপ।
আমার প্রস্তাবঃ- জীবিকার তাগিদে নিরুপায় হয়ে যারা ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে তাদের জন্য খাদ্য সহায়তা যথেষ্ট নয়, চাই নগদ টাকা।
দেশে নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে প্রান্তিক পরিবারের সংখ্যা কমবেশী দুই কোটি। এই দুই কোটি পরিবারকে বিকাশ বা নগদ নামের একাউন্ট মাধ্যমে মাসিক ১২ হাজার টাকা অনুদান অন্তত দু’টি মাস পাঠিয়ে দিয়ে কঠোরভাবে দেশটাকে লকডাউন করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন নয়।
তেল, বিদ্যুৎ, পানি, সিগারেট, ওষুধ সব কিছুতেই জনগনের কাছ থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স প্রভৃতি আকারে মানুষ এতকাল সরকারকে টাকা কম দেয়নি। একজন বাসাবাড়িতে কাজ করে খাওয়া মহিলাটিই বলুন, আর গার্মেন্টস কর্মী কিংবা রিক্সাওয়ালা পর্যন্ত প্রত্যেকে প্রতি ১০০ টাকা মোবাইল রিচার্জ করতে গিয়েও ২২ টাকা রাষ্ট্রকে দিয়েছে। বছরের পর বছর এই মানুষগুলো সরকারকে দিয়ে যাবে – প্রয়োজনে কিছু পাবেনা, এটা তো হতে পারে না। দুঃসময়ে তাদের পাশেও রাষ্ট্রকে দাঁড়াতে হবে।
হতে পারে এত টাকা সরকারের হাতে পড়ে নেই। কিন্তু আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যখন ৩১ বিলিয়ন ডলার, তখন এই টাকার জন্য বিদেশি অনুদানের জন্য প্রতীক্ষা কেন! ৫/৬ বিলিয়ন ডলার দেশের আমদানি ব্যবসায়ীদের কাছে সিকিউরিটি বন্ডের মাধ্যমে বিক্রি করেই এই টাকার সংস্থান হতে পারে। তাতে দেশের চলতি কসমোপলিটান যোগাযোগ উন্নয়নের কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিটা নাহয় একটি বছর পিছিয়েই দিলেন। তারপরও মানুষকে মোবাইলের মাধ্যমে নগদে টাকা দিন, মানুষ নিজের প্রয়োজন মতো কিনে খাবে।