• ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমরা বেশির ভাগ মানুষই অ্যামিবা চরিত্রের

দখিনের সময়
প্রকাশিত আগস্ট ১৪, ২০২০, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আমরা বেশির ভাগ মানুষই অ্যামিবা চরিত্রের
সংবাদটি শেয়ার করুন...
ফারুক হাসান
স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরে বঙ্গবন্ধুর ছিল পাহাড় সমান জনপ্রিয়তা। বঙ্গবন্ধু তার জিবনের ১৪টি বসন্ত জেলে কাটিয়েছেন। অসংখ্যবার জেলে গিয়েছেন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। হয়েছিলেন বাংলার মজিবর, পরিনত হয়েছিলেন বাঙালির অসংবাদিত নেতায়। ৭০ এর ৭ই মার্চের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষন শোনার জন্য ১০ লক্ষাধিক মানুষ হাজির হয়েছিল।
১০জানুয়ারি’৭২ এ পাকিস্তান থেকে ফিরে আসর পর লক্ষ লক্ষ মানুষ বঙ্গবন্ধুর জন্য হেসেছিল,আনন্দে কেঁদেছিল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাধারন মানুষের অসাধারণ নেতা।
আস্তে-ধীরে দলীয় লোকজন এবং চাটুকার আমলারা বঙ্গবন্ধুকে জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ১৯৭৫ সনে ২৫শে জানুয়ারী ৪র্থ সংশোধনী জারির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ (দলীয় নেতা, আমলা,সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শ্রমিকনেতা, কুটনীতিবিদ, পুলিশের বড় কর্তা) বাকশালে যোগদানের জন্য, বঙ্গবন্ধুর কৃপাদৃষ্টি লাভের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। কিন্তু ১৫ই আগষ্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পর বঙ্গবন্ধুর লাশ ৩২ নম্বরের সিড়িতে ফেলে রেখে ঐসমস্ত লোকজন খুনি মোস্তাকের মন্ত্রী সভায় যোগদানের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল।
আমলাসহ সবাই মোস্তাকের আনুগত্য মেনে নিয়েছিল খুব দ্রুত। দেশের কোথাও তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদ,প্রতিরোধ হয়নি।টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী সহ বরিশাল,ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, যশোর, চাঁদপুর, চট্টগ্রামে বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মৃদু প্রতিবাদ, মিছিল হয়েছিল। এবিষয়টি উল্লেখ করে
এই সেদিনও দলীয় সভায় বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেছেন, ” এত নেতা, এত কর্মী, এত বঙ্গবন্ধু ভক্ত থাকতেও সেদিন (১৫ আগষ্ট ১৯৭৫) আমার বাবার (বঙ্গবন্ধু) জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।…. “।
এই দলের বেশির ভাগ নেতারাই ১/১১ এর পর শেখ হাসিনাকেই রাজনীতি থেকে মাইনাস করার জন্য মঈনুদ্দিন গং এর সাথে হাত মিলিয়েছিল। এমনকি ঐসময় আদালতে হাজিরার সময়ও দলের কেউ দলীয় নেত্রীর সাথে দেখা করতে পর্যন্ত যায়নি বলে সেসময় নেত্রীর সাথে একই মামলার আসামি তৌফিক ই ইলাহি (প্রাক্তন সিএসপি- সচিব,বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা) তার একটি বইয়ের লেখায় (জীবনের জয়রথ, শ্রাবন প্রকাশন, জুন ২০২০) আক্ষেপ করেছেন। আসলে আমরা বেশির ভাগ মানুষই অ্যামিবা চরিত্রের। খুব দ্রুতই আমরা আমাদের রুপ/ আকার পরিবর্তনে পারদর্শী।