প্রায়দিনই দেখি খুব সকালে সাংবাদিক আলম রায়হান বরিশাল নগরীর কয়েকটি দেয়ালে নিজ হাতে ভ্রম্যমান পাঠকের পড়ার জন্য দৈনিক দখিনের সময় পত্রিকা লাগাচ্ছেন। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ওস্তাদ পত্রিকা তো অফিসের পিওন দিয়াই লাগাতে পারেন। জবাবে আলম রায়হান জানালেন, পিওন পেপার না লাগিয়ে অফিসে এসে বলে লাগিয়েছি, সারাদিন-রাত কষ্ট করে পত্রিকাটি প্রকাশ করি, আর তা যদি পাঠক না পড়তে পারে তাহলে তো সকল কষ্টই বৃথা! এমন একজন মাটির মানুষ যদি মাদক ব্যাবসায়ীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়, তাহলে সত্যিই কষ্ট লাগে।
গত ১৪ এপ্রিল পহেলা রমজানের বিকেল বেলা আমি নগরীর বটতলা বাজারের একটি মুদি দোকানে রমজানের জন্য কিছু কেনাকাটা করছিলাম। এমন সময় দেখি আলম রায়হান সেখান দিয়ে যাচ্ছেন। আমি দেখে সালম দিলাম এবং কুশলাদি জানতে চাইলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে আমাকে বললেন পত্রিকা অফিস পরিবর্তন করেছি। এখানে পাশেই আমাদের পৈতৃক কিছু সম্পত্তি আছে, ওখানেই অফিস করছি চলো দেখে আসবে।
আমিও সাথে সাথে তার সাথে গেলাম এবং দেখলাম টিনের ছাউনি দিয়ে সুন্দর একটা ঘর। আমি যেহেতু জলবায়ু নিয়ে কাজ করি তাই তাকে অফিসটি ডেকোরেশনের জন্য বাশ ও পাট দিয়ে সাজানোর জন্য পরামর্শ দেই এবং সামনের খালি জায়গায় বিভিন্ন ফুলের এবং ঔষধী গাছ লাগানোর জন্য বলি। দেখলাম ছোট একটি ডোবার মত রয়েছে। আলম রায়হান সেখানে লোক দিয়ে ডোবাটি পরিস্কার করাচ্ছেন এবং তাতে তেলাপিয়া মাছ চাষ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। আমি তাকে দেশী প্রজাতির শিং মাছ ছাড়ার জন্য পরামর্শ দিলে তিনিও আমার পরামর্শগুলো লুফে নেন।
নানা আলোচনার এক ফাঁকে জানলাম, বটতলা এলাকার এক মাদককারবারীর গত ছয় মাস ধরে সিনিয়র সাংবাদিক আলম রায়হানকে নানানভাবে হয়রানি করে আসছে। মাসখানেক ধরে নানানভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আলোচনা শেষে চলে আসার সময় কিছু পেয়ারা আমাকে উপহার দিয়ে আলম রায়হান বললেন, ইফতারে খাবে। ভালবাসার তো কোন বিনিময় মূল্য হয় না, আমার তরফ থেকে এটা শুভেচ্ছা উপহার। এর পর আমি তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অফিসে চলে আসি। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখলাম আলম রায়হান মাদক ব্যাবসয়ীর হাতে লাঞ্ছিত। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।