• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একা হয়ে পড়ছে বিএনপি?

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ৩১, ২০২৫, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
একা হয়ে পড়ছে বিএনপি?
বিশেষ প্রতিনিধি:
ভোটের সময় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে অন্য দলগুলোর যে মতপার্থক্য ছিল তা এখন বাড়ছে। কারণ ডিসেম্বরেই নির্বাচন করতে হবে, এই অবস্থানে নেই জামায়াত, এনসিপি এবং ইসলামপন্থি বেশিরভাগ দল। অন্তর্বর্তী সরকারও ডিসেম্বরে নির্বাচন দিতে চায় না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, পতিত আওয়ামী লীগও চায় না, দ্রুত দেশে নির্বাচন হোক। কারণ নির্বাচন হলে ‍এই দলের কোন লাভ নেই।
এদিকে সব দলই নির্বাচন ও এর রোডম্যাপ চায়। কিন্তু নির্বাচনের সময়ের প্রশ্নে বিএনপি ছাড়া অন্য দলগুলো ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন করার সরকারের অবস্থানের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। বামপন্থি কিছু দল বিএনপির সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন প্রশ্নে পো ধরেছে। কিন্তু ‍এরা রাতের টক শোতে যত গুরুত্বপূর্ণ, রাজনীতিতে তত নয়। এখন বামপন্থি দলগুলোর তেমন প্রভাব নেই। এনসিপি, জামায়াত ও ইসলামপন্থি দলগুলাকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপিকে কোণঠাসা করা বা তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করনোর চেষ্টা রয়েছে বলে যে আলোচনা রাজনীতিতে চলছে, সেটি বিএনপিও বিবেচনায় নিচ্ছে। যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা রাজনীতিতে একা হয়ে পড়লেও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারকে কতটা চাপে ফেলতে পারবে বিএনপি? ১৫ বছরে আওয়ামী লীগকে কিন্তু তেমন চাপে ফেলতে পারেনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীজনদের মধ্যে নিজেকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, অংশীজনদের বড় দুই শক্তি বিএনপি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তারা যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে সরকার চাপে পড়বে। কারণ সরকারের টিকে থাকাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। এ ধরনের চিন্তা থেকে গত কয়েকদিন ধরে বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে, সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ না দিলে তাদের পক্ষে সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ সহযোগিতা না করার ইঙ্গিত স্পষ্ট। ফলে দলটি সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে সহযোগিতা না করার ঘোষণাও দিতে পারে। যা ‍এক পর্যায়ে বিরোধীতায়ও রূপান্তরিতও হতে পারে। বিষয়টি গড়াতে পারে রাজপথেও। যদিও ‍ বিএনপির নেতারা এখনো বলছেন, সমাবেশ-গণজমায়েতের মতো গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা হবে। সাবেক শাসক দলের নেতাদের ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকারর বাধ্য না হলে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে না। ফলে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টাও থাকবে বিএনপির।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের রাখাইনের জন্য মানবিক করিডরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার হাত দিচ্ছে, যেগুলো বিতর্কের সৃষ্টি করছে। সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ সংশোধন করায় সচিবালয়ে কর্মকর্তা কমচারীরা পর্যন্ত আন্দোলনে নেমেছেন। রাজনীতিকরা মনে করছেন, সব ক্ষেত্রে সরকারের আগলা নিয়ন্ত্রনের পরিস্থিতি বিরাজমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে। এর মধ্যে সরকারের বড় অংশীজনদের মধ্যে সরকারকে ঘিরে সন্দেহ, অবিশ্বাস দানাবেধেছে। ফলে অস্থিরতা বা উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে নির্বাচন করতে হলে সরকার ও অংশীজনদের সব পক্ষের সমঝোতা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।