• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটকে পড়া গ্রিক জাহাজ থেকে শিল্পের সূচনা, বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান  

দখিনের সময়
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫, ২০:১৬ অপরাহ্ণ
আটকে পড়া গ্রিক জাহাজ থেকে শিল্পের সূচনা, বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান  

দখিনের সময় ডেস্ক:

জাহাজভাঙা শিল্পের শুরুটা নাটকীয়। সিনেমার মতো। পরিকল্পিত কোনো উদ্যোগ নয়। এক দুর্যোগ এমন একটা শিল্পের দ্বার খুলেছিল। ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্র উপকূলে প্রচণ্ড গতিতে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড়। ওই ঝড়ে সীতাকুণ্ডের শীতলপুর উপকূলে আটকা পড়ে গ্রিক জাহাজ এমভি আলপাইন। এই জাহাজ আর সাগরে ভাসানো সম্ভব হয়নি।পরিত্যক্ত অবস্থায় উপকূলেই ছিল এটি।

এই জাহাজ দেখতে স্থানীয় লোকজনের ভিড় হতো প্রতিদিন। কেউ কেউ জাহাজে ওঠার চেষ্টাও করতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এ এক বিস্ময়। ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম স্টিল হাউস কর্তৃপক্ষ জাহাজটি কিনে নেয়। এরপর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে জাহাজটি ভেঙে স্ক্র্যাপ লোহা সংগ্রহ করা হয়। এভাবেই জাহাজভাঙা শব্দটির সঙ্গে আস্তে আস্তে পরিচয় হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানি একটি জাহাজের লোহাও পরে স্ক্র্যাপ জাহাজ হিসেবে বিক্রি হয়। কর্ণফুলী মেটাল ওয়ার্কস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান জাহাজটি কিনে নিয়ে ভেঙেছিল। ব্যাপারটা লাভজনক হয়েছিল নিশ্চয়ই। শুরু হয়ে গেল জাহাজভাঙার কারবার। বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে রমরমা একটা ব্যবসায় পরিণত হয় সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্প। জাহাজভাঙা কারখানা এলাকার মানুষের আয়–উপার্জন বাড়িয়ে দেয়। এক জাহাজভাঙা কারখানায় হাজার রকমের কাজ, আবার হরেক রকম পণ্যের কারবারও রয়েছে। তাই হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা ওখানেই হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪৭টি জাহাজ আমদানি হয়েছে। এতে লোহার পরিমাণ ছিল প্রায় দশ লাখ টন। জাহাজভাঙা শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, জাহাজ আমদানি করে, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৫ থেকে ৬০টি। এই জাহাজের নানা পণ্য বেচাকেনার সঙ্গে কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান জড়িত। জাহাজভাঙা শিল্পের বাইরে ব্যবহৃত পণ্য বেচাকেনায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৬০ সালে একটি জাহাজ আটকা পড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে জাহাজভাঙার কারবার শুরু হয়।