দখিনের সময় ডেস্ক:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা শুরু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারে সুবিধা ধরে রাখতে এখনই কার্যকর প্রস্তুতি প্রয়োজন।
রোববার (১ জানুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি—বিশেষ করে তৈরি পোশাক—ইইউ বাজারে অব্যাহত প্রবেশাধিকার পায়, সে লক্ষ্যে আগাম আলোচনা জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজীকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়েও মতবিনিময় হয়। তিনি জাপানের সঙ্গে সদ্য সম্পন্ন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এ চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইইউ বাজারে বাংলাদেশ বর্তমান সুবিধা হারাতে পারে, তাই এফটিএ আলোচনা শুরু করা সময়ের দাবি। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হবে। ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানান, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি বড় বাজার হিসেবে দেখে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী, এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।