লুট হওয়া অস্ত্রের ছায়া, নির্বাচনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে
দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১৮:০৫ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার পর দেড় বছর পার হলেও তা এখনও পুরোপুরি উদ্ধার করা যায়নি। এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় দুই লাখ রাউন্ড গুলি খুঁজে পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে পিস্তল, শটগান, চায়নিজ রাইফেল, সাব-মেশিনগান এবং লাইট মেশিনগানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সময় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
গত দেড় বছরে সেনা-পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারু উদ্ধার করতে নিয়মিত অভিযান চালিয়েছে। সরকারও প্রতিটি অস্ত্রের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে, যেমন এলএমজি’র জন্য দেড় লাখ, চায়নিজ রাইফেলের জন্য এক লাখ টাকা। এতদূর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২,২৫৯টি অস্ত্র এবং প্রায় দুই লাখ ৩৭ হাজার রাউন্ড গুলি। তবে বাকিগুলো এখনো অপরাধীদের হাতে রয়েছে এবং ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যার মতো অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের সময় এই অস্ত্রের অপব্যবহার দেশের আইনশৃঙ্খলায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র ও গুলি লুট হওয়া, গুলি করে হত্যার ঘটনা এবং চাঁদাবাজি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে না আসায় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রার্থীদের হাতে অস্ত্র দেয়া হলেও অনেকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানে না, ফলে এটি নির্বাচনের পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আশ্বাস দিয়েছেন যে, লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচনের সময় ব্যবহার হতে পারবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের নজরদারি অব্যাহত রাখবে।