কথা আছে, তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উননে! এ রকমই ঘটনা ঘটেঠে জাম্বিয়ার পূর্বাঞ্চলে। হাতির পাল থেকে পালানোর সময় কুমিরের কবলে পড়েছেন এক জেলে। আর কুমিরের কবলে পড়া মানেই এতবারে পেটে চলে যাওয়া। কিন্তু হতভাগ্য ৫২ বছরের ডিন নিয়িরেন্ডা কুমিরের পেটে যাওয়া থেকে নিজকে রক্ষা করতে পারলেও তার জীবন আর রক্ষা পায়নি।
পুলিশ জানায়, ডিন নিয়িরেন্ডা তার দুই বন্ধুর সঙ্গে মাছ ধরা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হঠাৎ তারা একটি হাতির পালের মুখোমুখি হন। বিপদ বুঝে তিনজনই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পালানোর একপর্যায়ে নিয়িরেন্ডা লুয়াংগা নদীর কাছে একটি খালে ঝাঁপ দেন। সেখানেই একটি কুমির তাঁকে ধরে ফেলে। কুমিরটি নিয়িরেন্ডার ডান ঊরুতে কামড়ে ধরে। তবে হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে আঘাত করে নিয়িরেন্ডা কোনোভাবে কুমিরটির কবল থেকে মুক্ত হন। এবং আহত অবস্থায় খাল থেকে উঠে আসেন। ঘটনাটি দূর থেকে দেখছিলেন তাঁর দুই সঙ্গী। তারা দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত নিয়িরেন্ডাকে নদীতীর থেকে সরিয়ে নেন। এ সময় তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। সঙ্গীরা রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়িরেন্ডার ডান ঊরুতে গভীর কামড়ের চিহ্ন দেখতে পান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় হাতির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে। সংরক্ষণবাদীদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লুয়াংগা জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লুয়াংগা নদী আফ্রিকার নাইল কুমিরের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল। কমিউনিটি-ভিত্তিক সংরক্ষণ সংস্থা রিসোর্স আফ্রিকার তথ্যমতে, ২০২৩ সালে জাম্বিয়ায় বন্যপ্রাণী-সংক্রান্ত ২৬টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ১৫টি মৃত্যু ঘটে কুমিরের হামলায়। এসব ঘটনার বেশির ভাগই লুয়াংগা নদী এলাকায় ঘটেছে। এদিকে জাম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণীসমৃদ্ধ এলাকায় চলাচলের সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে বন্যপ্রাণী এলাকায় সুরক্ষা বেষ্টনী নির্মাণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।