সৌদি আরব মদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে শুরু করেছে। নতুন এই ব্যবস্থায় রাজধানী রিয়াদে ধনী অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দারা সীমিত পরিসরে বৈধভাবে মদ কিনতে পারছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ক্ষেত্রেও এ সুযোগ বাড়ানো হতে পারে। প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালে সৌদি আরবে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনার অধিকারী এই দেশটি এতদিন কঠোরভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছিল। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটছে।
এই সুবিধা পেতে হলে বিদেশিদের হয় প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পারমিট থাকতে হবে- যার বার্ষিক ফি প্রায় এক লাখ সৌদি রিয়াল অথবা মাসিক আয় অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল প্রমাণ করতে হবে। দোকানে প্রবেশের সময় পরিচয়পত্র, ধর্মীয় পরিচয় ও আয় সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে হয়। তবে পর্যটকদের জন্য এখনও এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়। প্রসঙ্গত, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবে গোপনে মদের ব্যবহার চলেছে। কখনও ব্যক্তিগত বাসভবনে, কখনো আবাসিক কম্পাউন্ডে কিংবা কালোবাজারের মাধ্যমে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দুবাইয়ের মতো পুরোপুরি উদার পথে না গিয়ে কাতারের মতো নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে এগোবে। সমাজকে প্রস্তুত করেই নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
রিয়াদের ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টারের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় চালু করা হয়েছে বিশেষ একটি দোকান। শুরুতে সেখানে শুধু অমুসলিম কূটনীতিকদের মদ কেনার অনুমতি ছিল। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। এখন ধনী অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দারাও সেখানে মদ কিনতে পারছেন। তবে মদ কেনার জন্য দোকানে মোবাইল ফোন নেওয়া নিষিদ্ধ এবং প্রবেশের আগে সেগুলো বিশেষ ব্যাগে সিল করে রাখা হয়। ক্রেতাদের অনেক সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। মদের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি হলেও কালোবাজারের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। এক ব্রিটিশ নির্বাহী জানান, একটি হুইস্কির দাম পড়েছে প্রায় ১২৪ ডলার। তবে সরকারিভাবে এই পরিবর্তন নিয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই বিষয়টি নিচু স্বরে বাস্তবায়ন করছে।
এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে অর্থনৈতিক চাপ বড় ভূমিকা রাখছে। তেলের দাম কম থাকায় সৌদি আরব বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় দেশটি পর্যটন, বিনোদন ও অ-তেল খাতে বৈচিত্র্য আনতে চায়। পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে রেড সি উপকূল বা আল-উলার মতো পর্যটন এলাকায় সীমিত পরিসরে পর্যটকদের জন্যও মদের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু হোটেল সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সূত্র: বিবিসি