দখিনের সময় ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বহুল আলোচিত এই চুক্তিতে সই হওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিদায়লগ্নে এমন একটি বড় চুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি গোপন রাখা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগে থেকেই একটি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেবে এবং এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়ভারও তাদের ওপর পড়বে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব প্রশ্নের মুখে পড়েন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানান, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখার লক্ষ্যেই নির্বাচনের আগেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ প্রায় এক লাখ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করছে এবং এই বাজার ধরে রাখতেই সম্পর্ক আরও জোরদার করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। তিনি জানান, নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।