• ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশার-৫ আসন নিয়ে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন দ্বন্দ্ব চরমে

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ২০:০৩ অপরাহ্ণ
বরিশার-৫ আসন নিয়ে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন দ্বন্দ্ব চরমে
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় রিপোর্ট:
জামায়াতের জোটে ইসলামী আন্দোলনের দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। সঙ্গে গলার কাঁটা হয়ে আছে এনসিপি। জামায়াতের জোটে সংকট ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে। একটি আসন নিয়ে। যেনো সেই গান, ‘একটি গন্ধমের লাগিয়া..’। কখনো সংসদে না যাওয়া এবং ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হবার সৌভাগ্যের সীমায় বিরাজমান এই দলটির মূল কেন্দ্র বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়ন। শহর থেকে নদী দিয়ে বিচ্ছিন্ন এই মাদকের অভায়ারন্য ইউনিয়নটি বরিশাল সদর, তথা বরিশাল-৫ আসনের আওতাধীন। এই আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি পীরের আপন ভাই। আবার সেই বচন, ‘আমরা-আমরাই তো’।
বরিশাল সদর আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি বরিশালের জেলারও আমির। একই জোটে থাকা দুই দলের কেউই আসনটি ছাড়তে নারাজ। যেনো ‘বিনাযুদ্ধে নাহি দেব সুচাগ্র মেদেনী’। ফলে দল দুটির মধ্যে টানাপোড়েন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষকরে যেখানে চরমোনাই পীরের মূল কেন্দ্র সেখানে জামায়াতের প্রার্থী দেয়াকে কোনভাবেই মেনেনিতে পারছে না ইসলামী আন্দোলন। এ প্রসঙ্গে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর ও বরিশাল-৫ আসনে দলটির প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বক্তব্য, ‘আমরা তো জামায়াত আমীর ডা. শফিক সাহেবের আসনে প্রার্থী দেই নাই। সেখানে আমাদের এখানে তাদের প্রার্থী দেয়াটা অসুন্দর হয়েছে। এই এলাকায় আমাদের ভিত্তি। এখানে জোটের অন্য কেউ নির্বাচন করবে, এটা সম্ভব? এটা কি হওয়া উচিত?’ এর জবাবে সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের দুই আসনে নির্বাচন করার ধনুক ভাঙ্গা পন প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত বলছে, ‘দুই আসনে তো জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাহেবও নির্বাচন করছেন না।’
প্রসঙ্গত, বরিশাল সদর আসনে একাধিকবার নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আছে পীরের দলটির। বিশেষ করে গত মেয়র নির্বাচনে সরকারের সকল শক্তি প্রয়োগ করার পরও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতকে বিজয়ী করতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে। আর এই আসনটি ঘিরেই মূলত ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব দৃশ্যমান। এমনকি জোটের কেন্দ্রে চিড় ধরিয়েছে বলে মনে বলছেন কেউ কেউ।