ডাক্তারি পড়ার চাপকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অভিজাত আসিয়ানা এলাকায় ২১ বছর বয়সী এক যুবক তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করে দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে লুকিয়ে রাখে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ অভিযুক্ত অক্ষত সিংকে গ্রেপ্তার করলে ঘটনাটির বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মানবেন্দ্র সিং (৪৯) পেশায় মদ ব্যবসায়ী এবং একটি প্যাথলজি ল্যাবের মালিক ছিলেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পড়াশোনা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। বাবা চাইছিলেন, ছেলে বিকম ছেড়ে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ডাক্তারি পড়ুক; তবে অক্ষত এতে সম্মত ছিলেন না। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে তিনি বাবার লাইসেন্সকৃত রাইফেল দিয়ে গুলি করেন। ঘটনাটি তার একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোনের সামনেই ঘটে। পরে বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
হত্যার পর প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ বাড়ির ভেতরেই টুকরো করা হয়। শরীরের কিছু অংশ গাড়িতে করে শহরের উপকণ্ঠের নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় এবং ধড় ও মাথা একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে নিচতলার একটি কক্ষে রাখা হয়। তিন দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হলে পুলিশের সন্দেহ ঘনীভূত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অসংগতি ধরা পড়লে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কড়া জেরায় অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করেন। ঘটনাটি লখনউজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।