পরকীয়ার অভিযোগে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর রামদার আঘাতে স্ত্রী ও তার বান্ধবীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফেনীতে এ ঘটনায় আহতরা হলেন- ফিরোজা আক্তার (২৩) ও আফসানা আক্তার (৩০)। তারা দুজনই শহরের হাজারী রোডস্থ ওয়াতান ল্যাবে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে ফিরোজা ও আফসানা একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়রা অভিযুক্ত স্বামী সুজনকে (২৭) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের আদালত পাড়া এলাকায় আজমীরি বেগম সড়কের নুর জাহান মঞ্জিলে এ ঘটনা ঘটে।
পেশায় অটোরিকশাচালক সুজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ফিরোজা আক্তারের স্বামী। জানা গেছে, ওই বাসায় আফসানা ও ফিরোজাসহ চারজন ভাড়া থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে সুজন ও ফিরোজার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ফিরোজা পরকীয়ায় জড়িত এমন অভিযোগ তুলে শুক্রবার সন্ধ্যায় সুজন ওই বাসায় গিয়ে ধারালো রামদা নিয়ে হামলা চালান। বাসায় ঢুকেই তিনি স্ত্রী ফিরোজাকে কোপাতে থাকেন। ফিরোজার চিৎকার শুনে আফসানা বাধা দিতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে দুজনেরই বাম হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালানোর সময় স্থানীয়রা সুজনকে আটক করে ফেনী মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আফসানার বোন আয়েশা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ঘরেই ছিলাম। সুজন হঠাৎ লম্বা একটি রামদা নিয়ে ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে কোপাতে শুরু করে। আমার বোন বাধা দিতে গেলে তাকেও কোপায়। তখন আমি ভয়ে দৌড়ে ছাদে চলে যাই।
আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আফসানার বাম হাত কবজি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ফিরোজার বাম হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিচ্ছিন্ন দেহাংশসহ তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের কারণে ফিরোজা স্বামীকে ছেড়ে শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি নেন। সেখানকার সহকর্মী আফসানার সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত এমন সন্দেহ থেকেই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে সুজন। এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।