• ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশি জাতের মাছের সরবরাহ প্রায় তলানিতে

দখিনের সময়
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৫, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
দেশি জাতের মাছের সরবরাহ প্রায় তলানিতে
সংবাদটি শেয়ার করুন...
আলম রায়হান
নদীমাতৃক আমাদের দেশে অসংখ্য নদনদী জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে দেশব্যাপী। নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট নদীর সংখ্যা ১০০৮। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রবহমান নদী রয়েছে ৯৩১টি। কিন্তু আমাদের জাতিগত অর্বাচীন আচরণে কমছে নদী, খাল, বিলসহ বিভিন্ন ধরনের জলাশয়। যেসব নদী, খাল বা বিল রয়েছে, তাও আবার নাব্যহারা এবং বিভিন্ন বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত।
একসময় আমাদের দেশে খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় ও নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ ছিল। কিন্তু এখন উন্মুক্ত জলাশয়ে বেড়ে ওঠা দেশি জাতের মাছের সরবরাহ প্রায় তলানিতে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট উভয় কারণেই অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। বিলুপ্তির দোরগোড়ায়ও রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি প্রজাতির মাছ। নদী, হাওর-বাঁওড় ও বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, প্লাবন ভূমির সঙ্গে সংযোগ খাল ভরাট, জলাশয়ে বছরের অধিকাংশ সময় পানি না থাকা এবং প্রজনন মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া।
মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমিতে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক নামের বিষ প্রয়োগ, মাত্রাতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ও পোনা ধরা, কলকারখানার বর্জ্য জলাশয়ে ফেলা, কারেন্ট জালের ব্যবহার, মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করা এবং ক্ষতিকর মৎস্য আহরণ সরঞ্জামের ব্যবহার। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। সাম্প্রতিক খবর হচ্ছে, ‘ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল’খ্যাত বরিশালের নদী থেকে মাছ এখন সাগরমুখী হয়েছে। এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়।
লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
# দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, ৪ সেপ্টেম্বর আগস্ট ২০২৫। শিরোনাম, ‘দেশি মাছ ধ্বংস বনাম রক্ষা প্রকল্প’