শেষ ভাষণে খামেনির সতর্কবার্তা
বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দেশে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) ভোরে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে খামেনির সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে প্রাসাদ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত দেখা গেছে। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্র দাবি করেছে। মৃত্যুর ১১ দিন আগে জনসমক্ষে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিরোধমূলক অস্ত্র না থাকলে কোনো দেশ শত্রুর চাপে টিকে থাকতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো রাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নির্ধারণের অধিকার কারও নেই। একই ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও অপ্রত্যাশিত জবাবের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় খামেনির মৃত্যুকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।