• ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আসন সমঝোতায় হালুয়া-রুটি ভাগের আলামত

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১৯:০৭ অপরাহ্ণ
আসন সমঝোতায় হালুয়া-রুটি ভাগের আলামত
সংবাদটি শেয়ার করুন...
আলম রায়হান:

বাংলাদেশে ভোটের মৌসুম মানেই জোটের তোড়জোর, টানাপোড়েন, ভাঙ্গা-গড়া, মান অভিমান। যেনো বিবাহ-সাধির ব্যাপার। অথচ এবার অন্যরকম প্রত্যাশা ছিলো। সেই আশায় গুড়েবালি। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নতুন দলও গড্ডলিকা প্রবাহে। ভিন্ন অবস্থানের চেয়ে ভীরের বাসে ওঠার মতো জোটের বৃত্তে প্রাপ্তির কসরতে একবারে গলদঘর্ম। আর সবই চলছে সনাতনী তরিকায়। এ ক্ষেত্রে নতুন বন্ধবস্তের ছিটেফোটাও নেই। অথচ জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এবার ভিন্ন কিছু প্রত্যাশিত ছিলো। কিন্তু তা হয়নি।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে বরিশালেরই পাশের জেলা পটুয়াখালিতে। পটুয়াখালি-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। এখানে জোটের পক্ষ থেকে শরীক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ‘শীর্ষ নেতা’ হিসেবে জোটের মনোনয়ন পেলেও এলাকায় হালে পানি পাচ্ছেন না নুরুল হক নুর। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা তার বিরোধী। নূরের জবানীতেই অভিযোগ, ‘এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীর নব্বই ভাগই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন’। উল্লেখ্য, আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান মামুন। সম্প্রতি তাকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছে। কিন্তু এই বহিস্কারাদেশ তিনি হাসের পালকে পানির মতো বিবেচনা করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রকাশ্যেই বলছেন, ‘বিএনপিকে বাঁচাতেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি’। যেনো বিএনপিকে বাচানোর একক ইজারা তার!
জুলাইয়ের পর যে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিলো এবং যে স্বচ্ছ অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, তাও জোট গঠনে দলগুলোর মননে থাকার কোন আলামত দেখা যাচ্ছে না। বরং, জোটের সীমানায় আসন লাভের জন্য এক প্রকার যুদ্ধ চলছে। এখানে নতুন বন্ধবস্তের প্রত্যাশা পুরোই উপেক্ষিত। এদিকে সব মিলিয়ে দেশের সামনে দৈত্যসম সংকট দাঁড়িয়ে আছে। চুপ করে আছে বিতারিত রাজনীতির রাক্ষস। এইসব প্রসঙ্গ সাইড লাইনে রেখে আদর্শিক অঙ্গীকার প্রয়াস ছাড়াই আসন সমঝোতাই জোট গঠনের চালিকা শক্তি হয়ে উঠছে। এই জোটের কাভারেজে ভোটে জিতে কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে অবদান রাখবে- তা পরিষ্কার নয়। তবে এটি খুবই পরিস্কার, ভোটের রেসে জেতার জন্য জোট গঠন প্রশ্নে নীতি-নৈতিকতার কোন বালাই নেই। বলে রাখা ভালো, বিএনপি ও জামায়াতের কোন শরিকেরই জাতীয় পর্যায়ে ভোট ব্যাংক নেই। কিন্তু আছে অহম আর প্রত্যাশার পাহার। ফলে জোট ভারি করার জন্য যাদেরকে নেয়া হয়েছিলো তাদের ভারেই প্রধান দুই দল অনেকটা ভারাক্রান্ত। আর তা নীতি-আদর্শ-কৌশল প্রশ্নে নয়, হালুয়ারুটি ভাগ করার মতো আসন সমঝোতা নিয়ে সংকট।